দুর্ঘটনাগ্রস্ত সেই বিমান। ছবি: পিটিআই।
তাঁর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল সোমবার বিকেলে। তখন জানিয়েছিলেন, দিল্লি যেতে হচ্ছে এক রোগীকে নিয়ে। চিকিৎসক পুত্রের সঙ্গে ওটাই ছিল তাঁর শেষ কথা। তার পরই বিমান দুর্ঘটনার কথা জানতে পারেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে এমনই জানালেন রাঁচীতে চার্টার্ড বিমান দুর্ঘটনায় মৃত চিকিৎসক বিকাশকুমার গুপ্তের বাবা। ওই বিমান দুর্ঘটনায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে।
সঞ্জয় কুমার নামে এক রোগীকে রেডবার্ড এয়ারওয়েজের বিচক্র্যাফ্ট সি৯০ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে দিল্লির একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিমানে সঞ্জয় ছাড়াও ছিলেন তাঁর স্ত্রী অর্চনা দেবী, আত্মীয় ধ্রুব কুমার, চিকিৎসক বিকাশকুমার গুপ্ত, নার্স সচিনকুমার মিশ্র, পাইলট বিবেক বিকাশ ভগত এবং সবরাজদীপ সিংহ। দুর্ঘটনায় সকলেরই মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসক বিকাশের বাবা বলেন, ‘‘বিকেলে ছেলে আমাকে বলল, বাবা আমাকে দিল্লি যেতে হবে এক রোগীকে নিয়ে। সন্ধ্যাবেলায় ওরা এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে রওনা দেয়। তার কিছু ক্ষণ পরেই জানতে পারি বিমানটি চাতরা জেলার একটি জঙ্গলে ভেঙে পড়েছে। তার পরই শুনলাম আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।’’ বিকাশের বাবা জানান, চাষের জমি বিক্রি করে পুত্রকে ডাক্তারি পড়িয়েছেন। কিন্তু এখন সব কিছু ওলটপালট হয়ে গেল। চিকিৎসক বিকাশের মৃত্যুতে রাঁচীর এক চিকিৎসক অনন্ত সিংহ বলেন, ‘‘বিকাশ আমাদের খুব কাছে ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত ওঁকে হারাতে হল।’’
রাঁচীর এই হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন রোগী সঞ্জয় কুমার। এক দুর্ঘটনায় তাঁর শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সঞ্জয়ের আরও ভাল চিকিৎসার জন্য তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক সিংহ। সড়কপথে তাঁকে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই এয়ার অ্যম্বুল্যান্সে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সঞ্জয়ের চিকিৎসার জন্য আত্মীয়দের কাছ থেকে আট লক্ষ টাকা ধার করেছিল তাঁর পরিবার। সেই টাকা দিয়ে একটি চার্টার্ড বিমান ভাড়া করে। সেই বিমানেই সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সঞ্জয়কে।