দীপ্তি অপহরণ-কাণ্ড

সাহস জুগিয়েছে ‘ডর’, কবুল মনোরোগীর

জেলে বসে অ্যাডল্ফ হিটলারের মাইন কাম্ফ পড়ত সে। হিটলার আর ইভা ব্রাউনের প্রেম কাহিনি তাকে টানত। আর তার অনুপ্রেরণা ছিল যশ চোপড়ার ‘ডর’।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৪:৩৩
Share:

জেলে বসে অ্যাডল্ফ হিটলারের মাইন কাম্ফ পড়ত সে। হিটলার আর ইভা ব্রাউনের প্রেম কাহিনি তাকে টানত। আর তার অনুপ্রেরণা ছিল যশ চোপড়ার ‘ডর’। ছবির খলনায়ক রাহুল ছিল তার প্রিয় চরিত্র। শাহরুখ খান অভিনীত সেই সুপারহিট ছবি দেখেই মনের মানুষকে অপহরণ করার ছক কষেছিল সে।

Advertisement

স্ন্যাপডিলের কর্মী দীপ্তি সারনা অপহরণ কাণ্ডের রহস্য উদ‌্ঘাটন করতে গিয়ে আজ ঠিক এই কথাগুলিই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন এসএসপি ধর্মেন্দ্র সিংহ। বলেছেন, ‘‘মূল অভিযুক্ত দেবেন্দ্র কল্পনার জগতে বাস করে। সে এক জন মনোরোগী। ওর প্রিয় ছবি ‘ডর’। ছবির খলনায়ক রাহুলের মতোই মনে মনে দীপ্তিকে ভালবাসত দেবেন্দ্র। আর সে জন্যই ২৪ বছরের ওই তরুণীকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করে সে।’’ দেবেন্দ্র আর তার চার সঙ্গীকে আজ গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত বুধবার গুড়গাঁওয়ের অফিস থেকে গাজিয়াবাদের বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন স্ন্যাপডিলের তরুণী কর্মী দীপ্তি সারনা। দু’দিন নিখোঁজ থাকার পরে শুক্রবার নিজেই ফিরে আসেন ওই তরুণী। পুলিশকে দীপ্তি জানিয়েছিলেন, অপহরণকারীরাই হরিয়ানা থেকে দিল্লি ফেরার ট্রেনে তাঁকে চাপিয়ে দিয়েছে। বাড়ি ফেরার জন্য ১০০ টাকাও দেয় তারা। ট্রেন দিল্লির কাছাকাছি এলে এক সহযাত্রীর মোবাইল থেকে বাবাকে ফোন করেন দীপ্তি। বাবাই তার পর দিল্লি স্টেশন থেকে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যান।

Advertisement

দীপ্তির এই বয়ানই প্রথমে ধন্দে ফেলেছিল পুলিশকে। যে এসএসপি আজ সাংবাদিক বৈঠক করে দেবেন্দ্র ও তার সঙ্গীদের পরিকল্পনা ফাঁস করেছেন, সেই ধর্মেন্দ্র সিংহই প্রথমে জানিয়েছিলেন, অপহরণের গল্প বানাচ্ছেন দীপ্তি। তাঁকে আদৌ কেউ ধরে নিয়ে যায়নি। স্বেচ্ছায় পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

আজ অবশ্য দীপ্তিকে ক্লিনচিট দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। জানিয়েছেন, অটোর এক মহিলা যাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে এক সুনসান এলাকা থেকে দীপ্তিকে অপহরণ করেছিল চার যুবক। এই চার জনই দেবেন্দ্রর সহকারী। তবে দীপ্তিকে সে ভালবাসে, বন্ধুদের সে কথা জানায়নি দেবেন্দ্র। বলেছিল, দীপ্তি হাওয়ালার কারবারি। তাকে অপহরণ করলে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা পকেটে পোরা যাবে। অপহরণ কাণ্ডের সময় নিজে সামনে আসেনি দেবেন্দ্র। পিছনে অন্য একটি গাড়িতে সর্বদা অনুসরণ করে গিয়েছিল সে। অপহরণের পরে দীপ্তির উপর শারীরিক বা মানসিক কোনও অত্যাচার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। চাওয়া হয়নি পণের টাকাও। উল্টে সময় সময় খাবার আর জল ওই তরুণীকে খাইয়েছিল দেবেন্দ্র। পুলিশ জানিয়েছে, রাজীব চক মেট্রো স্টেশনে এক পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে দীপ্তিকে প্রথম দেখে দেবেন্দ্র। সেই শুরু। টানা এক বছর সে দীপ্তিকে অনুসরণ করে গিয়েছে, ওই তরুণী টেরও পাননি। অপহরণের পিছনে তাঁর সেই বন্ধু রয়েছেন বলে দীপ্তিকে বুঝিয়েছিল সে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, দেবেন্দ্রই যে মূল অভিযুক্ত, তা বিশ্বাসই করতে চাননি দীপ্তি। উল্টে তার যাতে বেশি সাজা না-হয় তার জন্য পুলিশের কাছে আর্জিও জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

হরিয়ানার বাসিন্দা দেবেন্দ্র অবশ্য পুরনো অপরাধী। ২০১৪ সালে কুরুক্ষেত্রের জেলে থাকার সময় আদালতে হাজির করানোর দিন পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়েছিল সে। কুরুক্ষেত্র জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলে বসে হিটলারের আত্মজীবনী পড়ত দেবেন্দ্র। থাকত সম্পূর্ণ এক অন্য জগতে।

অপহরণ করেও দীপ্তিকে দেবেন্দ্ররা ছেড়ে দিল কেন?

পুলিশের ধারণা, বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই শুরু হওয়ায় অপহরণকারীরা ভয় পেয়ে যায়। ধরা পড়ার ভয়েই দু’দিনের মাথায় দীপ্তিকে ছেড়ে দেয় তারা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement