—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
একটি চিঠিতে মাওবাদী পলিটব্যুরোর সদস্য মাল্লোজুলা বেণুগোপাল রাও ওরফে অভয়ের নাম করে কেন্দ্রের সরকারকে শান্তি আলোচনা এবং সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের লালগড়ের জঙ্গলে নিহত মাওবাদী নেতা কিষেণজির ভাই অভয় মাওবাদীদের পলিটব্যুরোর সদস্য। অবশ্য সরকারি সূত্র মনে করছে যে, এই চিঠি সত্যি হয়ে থাকলেও সেটা মাওবাদীদের এক রকমের কৌশল। শান্তি আলোচনার কথা বলে তার আড়ালে তারা চাইছে নতুন সংগঠন গড়ার জন্য কিছুটা সময় পেতে।
কেন্দ্র ২০২৬ সালের মধ্যে দেশ মাওবাদীমুক্ত করার লক্ষ্য ঘোষণা করে রেখেছে। ক্রমশ বাড়ছে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযান। ছত্তীসগঢ়ের দান্তেওয়াড়ায় ৫ এপ্রিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মাওবাদীদের ‘ভাই’ সম্বোধন করে অস্ত্রত্যাগ করতে বলেছিলেন। সম্প্রতি খবরে আসা চিঠির তারিখ তার ক’দিন আগের— ২ এপ্রিল। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, গত মাসে হায়দরাবাদে পলিটব্যুরোর বৈঠকে এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ছত্তীসগঢ়, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ এবং তেলঙ্গনায় নিরাপত্তাবাহিনীর শিবির করা ও মাওবাদী দমন অভিযান বন্ধ হলে অবিলম্বে সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করে শান্তি আলোচনায় অগ্রসর হতে রাজি মাওবাদীরা।
অভয়, ভূপতি, বিবেক, রাজন এবং সোনু— নানা নামের আড়াল থেকে সক্রিয় মাল্লোজুলা বেণুগোপাল রাও। ৬৯ বছরের এই ব্যক্তি মাওবাদীদের ‘সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন’-এর মুখপাত্র। ভাই মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজির সঙ্গে তিনি নব্বইয়ের দশকে দেশের মাওবাদী অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে নানা সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ পরিচালনা করেছিলেন। কিন্তু ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর জীবনের মোড় অনেকটাই ঘুরে যায়। কিষেণজির জায়গায় তিনিই সন্ত্রাসমূলক কাজে অন্যতম মাথা হয়ে ওঠেন। গত ডিসেম্বরে গড়চিরৌলিতে আরও দশ মাওবাদীর সঙ্গে অভয়ের স্ত্রী বিমলা ওরফে তারা আত্মসমর্পণ করেছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের সামনে। তিনি নিজে ছিলেন মাওবাদীদের দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জ়োনাল কমিটির সদস্য।
ছত্তীসগঢ় পুলিশের বস্তার রেঞ্জের আইজি পি সুন্দররাজনের বক্তব্য, “স্থানীয় অধিবাসীদের আশা ও যুগপৎ কেন্দ্র এবং রাজ্যের সরকারের ইচ্ছায় মাওবাদী উপদ্রব নির্মূল করতে একটা সর্বাঙ্গীণ রূপরেখা ধরে অভিযান চালাচ্ছি। এখন জোরের জায়গায় আমরাই আছি। নকশালদের বিবৃতি যদি সত্যি বলে ধরেও নিই, প্রাথমিক ভাবে এটাকে সময় নষ্ট করার কৌশল বলেই মনে হচ্ছে। এমনটা আগেও করেছিল ওরা (মাওবাদী)।” আইজি বলছেন, “ওরা সম্ভবত নিশ্বাস ফেলার মতো একটু জায়গা খুঁজছে। আর সত্যি সত্যি প্রস্তাব দিলে আগে অস্ত্রত্যাগ করা উচিত।” তবে শান্তি আলোচনা নিয়ে শেষ কথা সরকারই বলতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন আইজি।
ছত্তীসগঢ়ের প্রাক্তন ডিজিপি আর কে ভিজ জানাচ্ছেন, এই নিয়ে দ্বিতীয় বার মাওবাদীরা সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দিল। আগের বার ছিল ২০০২ সালে, অবিভক্ত অন্ধ্রে চন্দ্রবাবু নাইডুর জমানায়। কিন্তু তা ভেস্তে যায়। চন্দ্রবাবু চাইছিলেন মাওবাদী সমস্যার স্থায়ী সমাধান। মাওবাদীরাও অস্ত্রত্যাগে নারাজ ছিল। ভিজের মতে, অস্ত্রত্যাগ না করলে এ বারের শান্তি আলোচনাও ভেস্তেই যাবে। চিঠিটির সত্যতা নিয়ে তিনিও সংশয় প্রকাশ করেছেন।