ক্যান্সার রোগীদের জন্য মুম্বইয়ে অতিথিশালা গড়তে উদ্যোগ

বরাক উপত্যকার ক্যানসার রোগীদের জন্য মুম্বইয়ে অতিথিশালা নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছে শ্রীহট্ট সম্মিলনী। করিমগঞ্জ, শিলচরে সে জন্য চলছে অর্থসংগ্রহ অভিযান। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বা দোকানে-অফিসে গিয়ে অবশ্য চাঁদা সংগ্রহের পক্ষপাতী নন তাঁরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬ ০২:০৩
Share:

বরাক উপত্যকার ক্যানসার রোগীদের জন্য মুম্বইয়ে অতিথিশালা নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছে শ্রীহট্ট সম্মিলনী। করিমগঞ্জ, শিলচরে সে জন্য চলছে অর্থসংগ্রহ অভিযান। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বা দোকানে-অফিসে গিয়ে অবশ্য চাঁদা সংগ্রহের পক্ষপাতী নন তাঁরা। কোটি টাকার প্রকল্পের বাস্তবায়ন যে এই ভাবে হবে না, তা বুঝেই নাগরিক সভা ডেকে সকলের পরামর্শ চাইছেন।

Advertisement

বরাক উপত্যকা-সহ উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে প্রচুর রোগী ক্যানসারের চিকিৎসায় মুম্বই যান। অচেনা-অজানা জায়গায় আগে রোগীর পরিজনদের বড় মুশকিলে পড়তে হয়। গত কয়েক বছর ধরে তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে শ্রীহট্ট সম্মিলনী, মুম্বই। কোথায় ভাল থাকা-খাওয়া হতে পারে, কোথায় চিকিৎসা ভাল হবে, কী করে তাঁরা সেখানে যাবেন—সে সব ব্যাপারে পরামর্শ দেন সম্মিলনীর কর্মকর্তারা।

সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক চন্দন পুরকায়স্থ বলেন, গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বছরে ৫ লক্ষ ক্যান্সার রোগী যান মুম্বইয়ে। টাকা-পয়সা খরচ করেও সকলের পক্ষে ভাল থাকার ব্যবস্থা করা মুশকিল হয়ে পড়ে। অনেকে আবার আর্থিক সমস্যার দরুন থাকা নিয়ে মুশকিলে পড়েন। বাধ্য হয়ে রোগীদের একাংশ চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই ফেরার ট্রেন ধরেন। এই সব দেখেই তাঁরা এই অঞ্চলের রোগীদের জন্য অতিথিশালা তৈরির কথা ভাবতে শুরু করেন।

Advertisement

সংগঠনের আর এক কর্মকর্তা বিমল ভট্টাচার্য জানান, ভাবনাটি নতুন নয়। ২০০৫ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ভারি শিল্পমন্ত্রী সন্তোষমোহন দেবও এ নিয়ে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তিনিই ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে তহবিল গঠনের পরামর্শ দেন। পরে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম রায় দেন আরও ৫ লক্ষ টাকা। ২০১৪ সালে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছেন আমেরিকার চিকিৎসক কালীপ্রদীপ চৌধুরীও। ১ লক্ষ টাকা দেন শিলচরের বর্তমান সাংসদ সুস্মিতা দেব।

সুস্মিতা আজ শিলচরের নাগরিক সভাতে আরও ১ লক্ষ টাকা দেবেন বলে জানান। ১ লক্ষ টাকা দিয়েছেন তাঁর মা, প্রাক্তন বিধায়ক বীথিকা দেব। শিলচরের সভায় এসে ১ লক্ষ টাকা দেন করিমগঞ্জের এআইইউডিএফ সাংসদ রাধেশ্যাম বিশ্বাস। বরাক উপত্যকায় অর্থ সংগ্রহ অভিযানের নেতৃত্ব রয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক বীথিকা দেব, সাধন পুরকায়স্থ, সুবীর কর, শিবব্রত দত্ত।

নাগরিক সভায় উপস্থিত অনেকে এই ধরনের কাজে সাধ্যমতো আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। শ্রীহট্ট সম্মিলনী-র ত্রিপুরা শাখার সভাপতি বিভাসরঞ্জন কিলিকদার বলেন, তিনি তাঁর রাজ্য থেকে একটা মোটা অঙ্ক তুলে দিতে চেষ্টা করছেন। এ সময়ে তহবিলে ৩০ লক্ষ টাকা রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সাধনবাবুর কথায়, শ্রীহট্ট সম্মিলনীর ভাবনা বাস্তবায়িত হলে শুধু বরাক উপত্যকাই নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্বের মানুষের উপকার হবে। ‘শ্রীহট্ট সম্মিলনী, মুম্বই’-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ, কার্যকরী সভাপতি শ্রীপদ ভট্টাচার্য বলেন, ২০০৩ সালে ভাড়াবাড়িতে একটি অতিথিশালা চালু করা হয়েছিল। তখন প্রচুর মানুষ উপকৃত হয়েছিলেন। কিন্তু ৭ বছরের ভাড়া-চুক্তি শেষ হতেই অতিথিশালা বন্ধ হয়ে যায়। মুম্বইয়ে জায়গা পাওয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে কারণেই তাঁরা নিজস্ব মালিকানায় একটি অতিথিশালা তৈরি করতে চাইছেন। মহারাষ্ট্র সরকার ও মুম্বই পুরনিগমের কাছে বার বার জমির আবেদন করে ব্যর্থ হন তাঁরা। তাই একটি জমি বা ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত হয় গত বছরের
কর্মসমিতির সভায়।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ১৪ জুলাই শ্রীহট্ট সম্মিলনী-মুম্বই গঠিত হয়। সেই থেকে তাঁরা এই অঞ্চলের ক্যানসার রোগীদের সাহায্যে কাজ করে চলেছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement