Harish Rana Euthanasia Case

দেশে প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যুর কাজ সম্পন্ন! সুপ্রিম কোর্টের অনুমতিতে হরীশকে বাঁচিয়ে রাখার ব্যবস্থা সরানো হয় আগেই

গত ১৩ বছর ধরে কৃত্রিম ভাবে তাঁর পুষ্টির ব্যবস্থা করতেন চিকিৎসকেরা। সময়ে সময়ে অক্সিজেনও দেওয়া হত। হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরে হরীশকে ধীরে ধীরে কৃত্রিম ভাবে পুষ্টি জোগানো বন্ধ করা হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৭:২৬
Share:

হরীশ রানা। — ফাইল চিত্র।

দিল্লির এমসে মঙ্গলবার মৃত্যু হল হরীশ রানার। গত ১৩ বছর ধরে কোমায় ছিলেন তিনি। তাঁর ‘পরোক্ষ’ নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, দেশে প্রথম বার। তার পরেই গাজ়িয়াবাদের বাড়ি থেকে তাঁকে দিল্লির এমসের বিআর অম্বেডকর ইনস্টিটিউট রোটারি ক্যানসার হাসপাতালের উপশমকারী বিভাগে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেখানে ৩১ বছরের যুবককে বাঁচিয়ে রাখার কৃত্রিম ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হয়।

Advertisement

গত ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট হরিশের বাবা-মায়ের আবেদন মেনে নিয়েছিল। তাঁর ‘পরোক্ষ’ নিষ্কৃতিমৃত্যুতে সায় দিয়েছিল। তার পরে ১৪ মার্চ তাঁকে বাড়ি থেকে এমসের হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত ১৩ বছর ধরে কৃত্রিম ভাবে তাঁর পুষ্টির ব্যবস্থা করতেন চিকিৎসকেরা। সময়ে সময়ে কৃত্রিম অক্সিজেনও দেওয়া হত। হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরে হরীশকে ধীরে ধীরে কৃত্রিম ভাবে পুষ্টি জোগানো বন্ধ করা হয়। তাঁর জীবনদায়ী ব্যবস্থা সরানো হয়।

সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশে জানিয়েছিল, পরিকল্পনা করে হরীশের জীবনদায়ী ব্যবস্থা খুলে নিতে হবে। যাতে মর্যাদা নিয়ে তিনি মারা যেতে পারেন, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। সেইমতো গোটা প্রক্রিয়া কার্যকর করার জন্য একটি দল গঠন করা হয়েছিল এমসে। তার শীর্ষে ছিলেন হাসপাতালের অ্যানাসথেশিয়া এবং উপশমকারী বিভাগের প্রধান সীমা মিশ্র। দলে ছিলেন নিউরোসার্জারি, ক্যানসার সংক্রান্ত অ্যানাসথেশিয়া, উপশমকারী মেডিসিন, মনস্তত্ত্ব বিভাগের চিকিৎসকেরা।

Advertisement

চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন হরীশ। ২০১৩ সালে হস্টেলের পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে চোট পান তিনি। সেই থেকে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী তিনি। ডাক্তারি পদ্ধতিতে হরীশের নিষ্কৃতিমৃত্যু চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর বাবা-মা। তাঁরা জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সাল থেকে তাঁদের সন্তান শয্যাশায়ী। তাঁর সেরে ওঠার আর কোনও সম্ভাবনা নেই। দিনের পর দিন অসুস্থতা আরও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পুত্রের কষ্ট লাঘব করার জন্যই তাঁর মৃত্যু প্রয়োজন। তবে প্রত্যক্ষ নয়, হরীশের জন্য পরোক্ষ মৃত্যুদানের আবেদন জানানো হয়।

প্রত্যক্ষ মৃত্যুদানের ক্ষেত্রে রোগীর কষ্ট লাঘবের জন্য চিকিৎসক এমন কোনও ওষুধ দেন, যাতে দ্রুত মৃত্যু নেমে আসে। এ ক্ষেত্রে তা চাওয়া হয়নি। চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়ে, লাইফ সাপোর্ট তুলে নিয়ে মৃত্যুদানের কথা বলা হয়েছিল। বিচারপতি জেবি পর্দীওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শীর্ষ আদালত হরীশের বাবা-মায়ের আবেদনে সম্মতি দেয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement