পরীক্ষায় নকলের কত ধরনের হয়। মাইক্রো জেরক্স করে, ছোট ছোট কাগজে লিখে, প্যান্টের ভাঁজে— এ রকম নানা উপায় বের করেছে ‘টুকলিবাজরা’। তবে এখন এ সব পুরনো হয়ে গিয়েছে। এখন পরীক্ষার নকল হাইটেক হয়ে গিয়েছে। আর তা ধরতে কালঘাম ছুটছে পরীক্ষার হলে থাকা গার্ডদের। বাইরে থেকে উত্তর আসছে, সেটা খাতায় টুকে ফেলছেন পরীক্ষার্থী। এবং খুব নিখুঁত ভাবে। তা সে স্কুল-কলেজের পরীক্ষা হোক বা চাকরির পরীক্ষা। আবার পরীক্ষার্থীর হয়ে অন্য এক জন পরীক্ষা দিয়ে গিয়েছেন এমনও নজির রয়েছে।
হাইটেক পদ্ধতিতে নকল করতে সাহায্য করা এমনই একটি দলকে গ্রেফতার করল জয়পুর পুলিশ। রাজস্থানে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় নকল করতে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত হয়েছিল দলটি। নকল করার পদ্ধতি দেখে পুলিশেরও কপালে চোখ! ধৃতদের তল্লাশি করে প্রথমে তেমন কিছু মেলেনি। পরে পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় ফের তল্লাশি চালানো হয়। তখন দেখা যায় ধৃতরা যে জুতো পরে আছে সেগুলো কেমন অস্বাভাবিক ঠেকছে। সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেকের জুতো পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা করতে গিয়ে পুলিশ চমকে ওঠে।
কেন?
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জুতোর নীচে মোবাইল ফেন এবং ব্লুটুথ ডিভাইস এমন ভাবে রাখা যে কেউই সন্দেহ করতে পারবে না। শুধু তাই নয়, হাঁটতে গিয়ে চাপ পড়ে যাতে মোবাইল না ভেঙে যায় সে জন্য অ্যালুমিনিয়ামের কভারের মধ্যে ফোন রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরেই এই দলটির সন্ধান চালাচ্ছিল তারা। অবশেষে দলটিকে ধরতে সফল হয়। ধৃতদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নগদ, প্রচুর মোবাইল, ব্লুটুথ, নকলে সাহায্য করার জন্য তাদের তৈরি বিশেষ জুতো-সহ বেশ কিছু নথি উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে এই কাজে কয়েক জন বিশেষজ্ঞও রয়েছে। দলটি শুধু নকলেই সাহায্য করত না, যাঁদের সাহায্য করত তাঁরা যাতে ধরা না পড়ে সেই দায়িত্বও নিত তারা।
রাজস্থানে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসেও ওই দলটির হাত রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন...