খান স্যার। অভিযুক্ত প্রিন্স যাদব। ছবি: সংগৃহীত।
পটনায় খান স্যারের কোচিং সেন্টারে ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক রৌশন আনন্দের ভাই প্রিন্সের মৃত্যু কী ভাবে, তা নিয়ে মুখ খুললেন বন্ধুরা। তাঁদের সঙ্গে নেপালে ঘুরতে গিয়েছিলেন প্রিন্স। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। খান স্যার এবং রৌশন স্যারের সম্প্রতি অশান্তির ঘটনার পর প্রিন্সের দেহ উদ্ধার হওয়ায় রহস্য আরও বেড়েছে। এর মধ্যেই খানের বিরুদ্ধে ভাইকে খুনের অভিযোগ তুলেছেন রৌশন স্যার। মৃত্যু না খুন— এই নিয়ে যখন জোর চর্চা চলছে, প্রিন্সের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া বন্ধুরা কিন্তু অন্য দাবি করেছেন।
প্রিন্সের এক বন্ধুর দাবি, তাঁরা সকলে একসঙ্গে হোটেলে ছিলেন। প্রিন্স খাবার খান। তার পর ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়েছিলেন। ওই বন্ধুর দাবি, প্রিন্স শুয়ে পড়ার পর তাঁরা যে যাঁর ঘরে চলে যান। প্রিন্স-সহ তিন বন্ধু হোটেলে ছিলেন। বাকি তিন জন কাছের এলাকায় ঘুরতে বেরিয়ে ছিলেন। কিছু ক্ষণ পরেই এক বন্ধু হোটেল থেকে ফোন করে জানান, প্রিন্সের শরীর খারাপ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সেই খবর পেয়ে অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে প্রিন্সকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসার সময় মৃত্যু হয় তাঁর। প্রিন্সের বন্ধুদের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানেই এই দাবি করেছেন তাঁরা (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
প্রিন্সের এক বন্ধুর দাবি, ‘‘বেশ কিছু দিন ধরে প্রিন্স মানসিক ভাবে প্রচণ্ড চাপে ছিল। তার জন্য ওষুধও খাচ্ছিল। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় খাবার এবং ওষুধ খেয়ে শুতে চলে যায়। আমাদের মনে হয়েছিল মানসিক চাপে রয়েছে, তাই ঘুমোনো জরুরি। ফলে ওকে আর বিরক্ত করিনি।’’ আর এক বন্ধু বলেন, ‘‘গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল প্রিন্স। আমরা তিন জন কাছেই ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। ললিত এবং পারজেশ নামে দুই বন্ধু প্রিন্সের সঙ্গে হোটেলেই ছিল। প্রিন্সের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। ওর সঙ্গে থাকা দুই বন্ধু এই পরিস্থিতি দেখে ঘাবড়ে গিয়েছিল। তার পরই আমাদের ফোন করে।’’
পুলিশকে বন্ধুরা জানিয়েছেন, খান স্যারের কোচিং সেন্টারে ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই মানসিক চাপে ছিলেন প্রিন্স। তাঁর নামে এফআইআর হওয়ায় গ্রেফতারির আশঙ্কা করছিলেন। আর সেই গ্রেফতারি এড়াতে গত ৩ জুন বন্ধুদের সঙ্গে নেপালে ঘুরতে চলে যান। সেখানে বিরাটনগরে একটি হোটেলে ওঠেন। রবিবার মৃত্যু হয় প্রিন্সের।
প্রসঙ্গত, খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলা হয়। সেই হামলার অভিযোগ ওঠে রৌশন স্যারের ভাইয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সে সময় খান স্যারের কোচিং সেন্টারে ঢুকে তাণ্ডব চালান প্রিন্স। দুই স্যারের কোচিং সেন্টারের মধ্যে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ বেশ কয়েক বছরের। এর আগেও দুই কোচিং সেন্টার পরস্পরের বিরুদ্ধে কয়েক বার ঝামেলায় জড়িয়েছিল। গত ২ জুন খান স্যারের কোচিং সেন্টার এবং রৌশন স্যারের জ্ঞানবিন্দু কোচিংয়ের মধ্যে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে প্রথমে হাতাহাতি, পরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। বিহারের রাজধানী পটনায় খান স্যারের কোচিং ইনস্টিটিউট এবং জ্ঞানবিন্দু কোচিংয়ের সদস্যদের মধ্যে অশান্তির ঘটনায় দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশে এফআইআর দায়ের হয় খান স্যারের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হন জ্ঞানবিন্দু কোচিং সেন্টারের শিক্ষক রৌশন।