স্বামী সমর্থ সিংহের সঙ্গে মৃত মডেল-অভিনেত্রী ত্বিশা শর্মা। —ফাইল চিত্র।
জাপানি উপন্যাসে মজে আছেন ভোপালে মৃত মডেল-অভিনেত্রী ত্বিশা শর্মার স্বামী সমর্থ সিংহ। সিবিআই হেফাজতে বসে ‘ক্রাইম থ্রিলার’ পড়ছেন তিনি। শুক্রবার ভোপালের আদালত তাঁকে আরও পাঁচ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। সূত্রের খবর, উপন্যাসটি প্রায় শেষ করে ফেলেছেন সমর্থ। এই উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে একটি খুনের ঘটনা, যেখানে অভিযুক্ত শেষপর্যন্ত প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পেয়ে যান। সমর্থ মন দিয়ে গল্পটি পড়ছেন।
ত্বিশার অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করেছিল ভোপালের পুলিশ। পরে তাঁর মা তথা ত্বিশার শাশুড়িকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ভোপাল পুলিশের হাত থেকে এই মামলার তদন্তভার মধ্যপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই তুলে দিয়েছে সিবিআইয়ের হাতে। গত ১২ মে ভোপালের কাটরা হিল্স এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় ত্বিশার দেহ। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়িতে অত্যাচার করা হত ত্বিশার উপর। তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। সমর্থ পেশায় আইনজীবী। তাঁর মা জেলা আদালতের প্রাক্তন বিচারক। ‘প্রভাবশালী’ পরিবার হওয়ায় প্রথম থেকেই এই ঘটনা আলাদা করে প্রচারের কেন্দ্রে।
সিবিআই হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের ফাঁকে সমর্থকে বই পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি পড়ছেন জাপানি লেখক আসাকো ইউজ়ুকির লেখা ‘বাটার’ উপন্যাস। এটি মূলত ‘ক্রাইম থ্রিলার’, যা সত্য ঘটনা দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে লেখকের দাবি। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র এক মহিলা। জাপানের একাধিক ধনী ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর অপরাধ সংবাদমাধ্যমেও আলাদা করে প্রচার পেয়েছে। সমগ্র উপন্যাস জুড়ে খুনের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ওই মহিলা। কিন্তু শেষে গিয়ে দেখা যায়, প্রমাণের অভাবে তাঁকে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়েছে। জেনেশুনেই পড়ার জন্য এই উপন্যাসটিকে সমর্থ বেছে নিয়েছেন কি না, স্পষ্ট নয়।
ত্বিশার মৃত্যু মামলায় স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে হস্তক্ষেপ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেখান থেকে সব পক্ষকে সংযত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্বিশার শ্বশুরবাড়ি এবং বাপের বাড়ির লোকজনকে সংবাদমাধ্যমের সামনে খুব বেশি মুখ না-খোলার পরামর্শ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, এই মামলা নিয়ে সংবাদমাধ্যমকেও সংযত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ত্বিশার শাশুড়ি প্রাক্তন বিচারক বলে এই মামলায় বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, এই ধরনের সন্দেহের জন্য তারা ‘ব্যথিত’। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।