বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: সংগৃহীত।
বিরোধী সাংসদদের তুমুল প্রতিবাদে মুখেই তাঁর বক্তৃতা শুরু হল। বক্তৃতার মধ্যেই রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করলেন বিরোধীরা। তারই মধ্যে সংসদের উচ্চকক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের সমর্থনে সরব হলেন। সেখানে তাঁর সরকারের নানা সাফল্যের দাবি এবং কংগ্রেস-তৃণমূলের নিন্দা করলেও নীরব রইলেন রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি এবং আমেরিকার কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতের বাজার খুলে দেওয়ার বিরোধী-অভিযোগ প্রসঙ্গে।
রাজ্যসভায় বৃহস্পতিবার মোদী বলেন, ‘‘যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যচুক্তি হয়েছিল, তখন বিশ্ব স্থিতিশীলতার প্রতি আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির পরে সেই আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। এটি বিশ্বের পক্ষে একটি শুভ লক্ষণ।’’ ২৭টি দেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যচুক্তিকে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ (সব চুক্তির জননী) বলে চিহ্নিত করে মোদীর মন্তব্য, ‘‘কিন্তু এখানে আমাদের থামলে চলবে না, বিকশিত ভারতের লক্ষ্য অর্জনের জন্য এগিয়ে যেতে হবে।’’ প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ভারত এবং আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তিতে সই করবে মার্চ মাসে
গত সোমবার রাতে (ভারতীয় সময়) দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীই তাঁকে শুল্ক সমঝোতার জন্য অনুরোধ করেন বলেও জানান ট্রাম্প। ট্রাম্পের ওই দাবি প্রসঙ্গে একটিও বাক্য বললেন না প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যসভার মোদীর বক্তৃতার আগে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে ১৪০ কোটি ভারতবাসীর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করলেও সরাসরি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। একই ভাবে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর হলে আমেরিকার কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতের বাজার খুলে দেওয়া হতে পারে বলে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও নীরব রইলেন মোদী।