সতর্ক আয়কর দফতর

পুরনো রিটার্ন পাল্টে সাদা হচ্ছে টাকা

আয়কর আইনের ফাঁক দিয়েই সাদা হচ্ছে কালো টাকা! আগের বছরগুলির আয়কর রিটার্ন ফাইল সংশোধন করে আয়ের হিসেব বদলানোর সুযোগ রয়েছে আয়কর আইনে। নোট বাতিলের পরে কালো টাকার মালিকরা তারই সুযোগ নিচ্ছেন বলে সন্দেহ করছেন কর্তারা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬ ০২:৫৩
Share:

আয়কর আইনের ফাঁক দিয়েই সাদা হচ্ছে কালো টাকা!

Advertisement

আগের বছরগুলির আয়কর রিটার্ন ফাইল সংশোধন করে আয়ের হিসেব বদলানোর সুযোগ রয়েছে আয়কর আইনে। নোট বাতিলের পরে কালো টাকার মালিকরা তারই সুযোগ নিচ্ছেন বলে সন্দেহ করছেন কর্তারা। আগে যে আয় দেখানো হয়েছিল, তার থেকে অনেক বেশি আয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে এখন। কর ফাঁকির এই চেষ্টা নজরে আসায়, এ বার মাঠে নামছে আয়কর দফতর। তার আগে আজ সরকারি ভাবে সতর্কবার্তা জারি করে অর্থ মন্ত্রকের হুঁশিয়ারি— কাগজপত্র পরীক্ষায় জালিয়াতি ধরা পড়লে কড়া শাস্তি ও জরিমানা করা হবে।

নোট বাতিলের পর থেকেই টাকা সাদা করার নানা রকম ফন্দিফিকির খুঁজছেন কালো টাকার মালিকেরা। প্রথমে পুরনো বিল বানিয়ে গয়না কিনে ফেলা, ভাড়া করা লোক ব্যাঙ্কে পাঠিয়ে নোট বদলানো, তার পর গরিবদের জনধন অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করা, এর পর ব্যাঙ্কের অফিসারদের সঙ্গে যোগসাজসে পুরনো নোট বদলে নেওয়ার বিষয়টিও ধরা পড়েছে। আয়কর দফতরের তল্লাশিতে একের পর এক শহরে পুরনো নোটের পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের নতুন ২০০০ টাকার নোট ধরা পড়ছে। আয়কর দফতরের কর্তারা বলছেন, তার সঙ্গেই এবার আগের বছরগুলির রিটার্ন ফাইল সংশোধন করে আয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে।

Advertisement

কী ভাবে হচ্ছে এই জালিয়াতি?

অর্থ মন্ত্রকের কর্তাদের বক্তব্য, আয়কর আইনের ১৩৯(৫) ধারায় যে সব বছরের আয়কর রিটার্ন ফাইল হযে গিয়েছে, সে ক্ষেত্রে আয়, হাতে নগদের পরিমাণ, লাভের অঙ্ক সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। রিটার্ন ফাইলের সময় কোথাও হিসেবের ভুল হলে বা কোনও নথি নজর এড়িয়ে যেতে পারে ভেবেই এই সুবিধা দেওয়া হয়। আয়কর কর্তারা দেখেছেন, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এখন চলতি বছরের কালো টাকার আয়, বিশেষ করে অচল নোটে ধরে রাখা আয়কে অতীতের আয় বলে চালানোর চেষ্টা করছেন অনেকে।

নরেন্দ্র মোদী সরকার এমনিতেই আয়কর আইনে সংশোধন কর কালো টাকার মালিকদের আরও একবার ৫০ শতাংশ কর-জরিমানা দিয়ে ছাড় পেয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। নিজেরাই কালো টাকার কথা জানিয়ে দিলে এই সুযোগ মিলবে। পরে ধরা পড়লে ৮২.৫ শতাংশ পর্যন্ত কর-জরিমানা মেটাতে হবে। কিন্তু সেই জরিমানা এড়াতে অনেকে অতীতের আয় দেখিয়ে আরও কম হারে কর মিটিয়ে ছাড় পেতে চাইছেন বলে আয়কর কর্তাদের দাবি।

প্রশ্ন হল, তল্লাশি শুরুর আগে সতর্ক করে দিয়ে লাভ কী? আয়কর দফতরের এক কর্তার বক্তব্য, ‘‘আমরা যে জালিয়াতির এই পথটা টের পেয়ে গিয়েছি, তা জানতে পারলে অনেকে এই পথে হাঁটবেন না। যারা ইতিমধ্যেই জালিয়াতি করে ফেলেছেন, শুধু তাদের ধরলেই চলবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement