—ফাইল চিত্র।
লকডাউনের ধাক্কায় জেরবার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে মোদী সরকারের বিশল্যকরণী ছিল ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ঋণ। কিন্তু বাজারে বিক্রিবাটা নেই বলে ব্যাঙ্কগুলি ঋণ দিতেই দোনামনা করছে।
আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারি, বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্ণধারদের সঙ্গে বৈঠক করে স্পষ্ট করে দিলেন, ছোট-মাঝারি শিল্প ও কারখানায় উৎপাদনকারী সংস্থাকে ঋণ বিলি বাড়াতে হবে। তার জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে সরকার প্রয়োজনীয় সব রকম সাহায্য করবে।
আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন ঘন্টার বৈঠকে ব্যাঙ্ক কর্তারা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, এমন নয় যে শুধু তাঁরাই কম ঋণ বিলি করছেন। বাজারে তেমন বিক্রিবাটা নেই বলে শিল্পমহলও নতুন লগ্নির জন্য ঋণ নিতে এগিয়ে আসছে না। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদ কমালেও শিল্পমহল ঋণ নিতে চাইছে না। কারণ লকডাউনের ধাক্কায় অনেক সংস্থাই ধুঁকছে। দরাজ হাতে এখন ঋণ বিলি করলে তা শোধ হবে কি না, তা নিয়েও চিন্তা রয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নিজেই জানিয়েছে, অতিমারির জেরে তৈরি সঙ্কটের ফলে আগামী বছর ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণের বোঝা মাথা চাড়া দিতে পারে।
ব্যাঙ্ক কর্তাদের এই মনোভাবের জেরে মে মাসে ঋণ বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। গত বছর অর্থনীতির শ্লথ গতি সত্ত্বেও মে মাসে ঋণ বৃদ্ধির হার ১১.৫ শতাংশ ছিল। সরকারি সূত্রের খবর, হাল শোধরাতে আজ প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্তাদের জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে সরকার নতুন পুঁজির জোগান দেবে। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালার কটাক্ষ, প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাঙ্ক কর্তাদের জানানো উচিত ছিল যে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে সরকারের নরম মনোভাবের জন্যই ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণের বোঝা বেড়েছে!
এ দিকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রের খবর, বুধবার ব্যাঙ্ক ও ব্যাঙ্ক ছাড়া অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা এনবিএফসি-র কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদী রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর, সেবি-র চেয়ারম্যান, বিমা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, পেনশন তহবিল নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের প্রধানদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল, ছোট-মাঝারি শিল্পের মন্ত্রী নিতিন গডকড়ীও হাজির থাকবেন।
বুধবারের বৈঠকে স্টেট ব্যাঙ্ক, পিএনবি-র মতো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, এবং আইসিআইসিআই এইচডিএফসি-র মতো বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্ণধাররা হাজির ছিলেন। বৈঠকে সরকারের দিক থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্যে ব্যাঙ্ক, এনবিএফসি-র মতো আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রের উপরে যথেষ্ট গুরুত্ব
দিচ্ছে সরকার। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজে ব্যাঙ্ক-এনবিএফসি-র মাধ্যমে ঋণ বিলিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ছোট-মাঝারি শিল্পের ঋণ শোধ না হলে সরকার তার গ্যারান্টি হিসেবে তহবিল তৈরি করেছে।