হরমুজ় প্রণালী। — ফাইল চিত্র।
ইরানের সঙ্গে আপাতত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সহমত পোষণ করেছে ইরান এবং ইজ়রায়েলও। সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল ভারত। একই সঙ্গে হরমুজ় প্রণালীতে অবাধ নৌচলাচলের স্বাধীনতার কথা বলল নয়াদিল্লি।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতি জারি করে যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‘আশা করি এই যুদ্ধবিরতি পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি নিয়ে আসবে।’’ পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পর থেকেই ভারত বার বার ‘কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ’ খোঁজার উপর জোর দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানো এবং হরমুজ় প্রণালী খোলার ব্যাপারে সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি। বুধবার আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সেই বিষয়ই পুনর্ব্যক্ত করল নরেন্দ্র মোদী সরকার।
বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, ‘‘আমরা আগে ক্রমাগত বলে এসেছি চলমান সংঘাত দ্রুত অবসানের জন্য কূটনীতি এবং আলোচনা অপরিহার্য। এই সংঘাতের কারণে ইতিমধ্যেই মানুষকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্য ব্যাহত হয়েছে।’’ তার পরেই বিবৃতিতে নয়াদিল্লি উল্লেখ করেছে, ‘‘আমরা আশা করি হরমুজ় প্রণালীতে নৌচলাচলের অবাধ স্বাধীনতা এবং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের প্রবাহ বজায় থাকবে।’’
বুধবার ভোরে (ভারতীয় সময়) যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘ইরানে এখনই সেনা পাঠাচ্ছি না। বোমা ফেলব না।’’ এ-ও জানান, এই যুদ্ধবিরতি দু’তরফেই! অর্থাৎ, আপাতত ইরান বা আমেরিকা— দু’দেশই সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে। একই সঙ্গে জোর দেন, হরমুজ় প্রণালী অবিলম্বে, সম্পূর্ণ এবং নিরাপদে খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান রাজি হয়েছে। যুদ্ধবিরতিতে সহমত হয় ইরানও। হরমুজ় খোলার ব্যাপারে পরে ইতিবাচক মনোভাব দেখায় ইরান। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা যথাযথ ভাবে বিবেচনা করে তবেই হরমুজ় দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব।