আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০। — ফাইল চিত্র।
রাশিয়া থেকে আরও পাঁচ ইউনিট এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) কেনার অনুমোদন পেল ভারতীয় বিমানবাহিনী। আরও এস-৪০০ কেনা হবে, তা আগেই ঠিক ছিল। এ বার তা বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
জানা গিয়েছে, প্রতিরক্ষাসচিব রাজেশকুমার সিংহের নেতৃত্বে গঠিত বোর্ড ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। এ বার বিষয়টি যাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা ক্রয় বিষয়ক পরিষদের (ডিফেন্স অ্যাকুইজ়িশন কাউন্সিল বা ডিএসি) কাছে। সেখানে ছাড়পত্র পাওয়ার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিএস) কাছে পাঠানো হবে।
২০১৮ সালে এস ৪০০-র মোট পাঁচটি ইউনিট ভারতে পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল রাশিয়া। এগুলির মধ্যে তিনটি অনেক আগেই ভারতে এসেছিল। চলতি বছরেই বাকি দুই ইউনিট রাশিয়া থেকে ভারতে চলে আসবে বলে মনে করছেন অনেকে। তার সঙ্গে আরও কয়েকটি এস-৪০০ জোড়ার পরিকল্পনা বেশ কয়েক দিন ধরেই করছিল ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
পহেলগাঁও সন্ত্রাসের প্রতিক্রিয়ায় ২০২৫ সালের ৭ মে পাক জঙ্গিঘাঁটিতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়েছিল ভারতীয় বাহিনী। এর জবাবে ভারতের ১৫টি শহরকে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছোনোর আগেই সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রুশ এস-৪০০ ব্যবহারেই এসেছিল সেই সাফল্য। সেই সাফল্যের পরই আরও এস-৪০০ কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় ভারত।
বর্তমানে ভারতীয় সেনার ব্যবহৃত এস-৪০০-র পাল্লা সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার। অন্য দিকে, ২০২১ সালে রুশ সেনার অন্তর্ভুক্ত হওয়া এস-৫০০ আদতে ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ‘ইন্টার-কন্টিনেন্টাল অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল’। এর পাল্লা সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোমিটার। ওই সীমার মধ্যে শত্রুপক্ষের ড্রোন, বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র এলেই তা নিমেষে ধ্বংস করে দিতে পারে এস-৫০০। ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফের নির্মাণ শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে প্রযুক্তি হস্তান্তরপর্ব। তার মধ্যেই আরও এস-৪০০ কেনার বিষয়টিও চূড়ান্ত করে ফেলতে চায় ভারতীয় সেনাবাহিনী। পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই বিষয়টি প্রকাশ্যে এল।