হরমুজ় প্রণালীতে ভারতীয় নৌসেনার ভূমিকা ব্যাখ্যায় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
পশ্চিম এশিয়ার উপকণ্ঠে হরমুজ় প্রণালীতে পাহারা দিচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা। এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তবে নৌবাহিনীকে কী ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা কোন জাহাজ পাহারা দিচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু খোলসা করতে চাননি। হরমুজ়ের পশ্চিম প্রান্তে আটকে থাকা ২২টি ভারতীয় জাহাজের অবস্থা ব্যাখ্যা করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রক। দেশে এলপিজি মজুত এবং জোগানের পরিস্থিতিও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বুধবার কেন্দ্রের জাহাজ মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে যৌথ ভাবে একটি সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। সেখানেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নিজ নিজ মন্ত্রকের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন প্রতিনিধিরা। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে রণধীর জানান, মঙ্গলবারই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জ়ায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ওই দেশের উপর যাবতীয় হামলার কড়া নিন্দা করেছে ভারত। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে নিরাপদে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের গুরুত্ব নিয়েও দুই রাষ্ট্রনেতা একমত হয়েছেন। এর পরেই তিনি জানান, হরমুজ় সংলগ্ন অঞ্চলে ভারতীয় নৌসেনা সক্রিয় রয়েছে। তারা জাহাজ পাহারা দিচ্ছে। ভারত সরকারের একাধিক উদ্যোগে নৌসেনা সহায়তা করছে। এর বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি।
ইরানে আটকে থাকা ভারতীয় ছাত্রদের সাহায্যে তৎপর হয়েছে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। আর্মেনিয়া বা আজারবাইজানের সীমান্ত পেরিয়ে স্থলপথে ওই দেশ ছাড়তে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। দূতাবাস এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকাও জারি করেছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিন্হা। তিনি জানান, হরমুজ় প্রণালীর পশ্চিম প্রান্তে আটকে থাকা ২২টি জাহাজে ৬১১ জন ভারতীয় আছেন। তাঁরা সকলে সুরক্ষিত। নতুন করে কোনও ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিম এশিয়া থেকে জলপথে ২৫ জন ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরানো হয়েছে। কন্ট্রোল রুমে এসেছে ১২৫টি ফোন এবং ৪৫০টি ইমেল।
কিছু দিন আগে হরমুজ় প্রণালী পেরিয়ে দুই ভারতীয় জাহাজ শিবালিক এবং নন্দাদেবী ভারতের উপকূলে পৌঁছেছে। এই মুহূর্তে তা থেকে পণ্য নামানোর কাজ চলছে। বিশাখাপত্তনমের বন্দরে ২২৫০ বর্গমিটার বাড়তি পণ্য মজুতের জায়গা তৈরি করা হয়েছে। কোনও বন্দরে এখনও কোনও সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন রাজেশ।
পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের কারণে দেশে এলপিজি-র জোগান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখনও গ্যাসের ডিলারদের অফিসের সামনে লম্বা লাইন পড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বিশেষ সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, ‘‘এলপিজি পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। যদিও অনলাইন বুকিং পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ৯৩ শতাংশ বুকিং এখন অনলাইনে হচ্ছে। কিন্তু অনেক ডিলারের কাছে এখনও লম্বা লাইন পড়ছে। গ্রাহকদের কাছে আমাদের অনুরোধ, বুকিংয়ের পর একটু অপেক্ষা করুন। সিলিন্ডার ঠিক পৌঁছে যাবে।’’
যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও দেশে পেট্রল বা ডিজ়েলের দাম বাড়েনি, জানিয়েছেন সুজাতা। বিমান চলাচলের জন্যেও পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। জ্বালানির ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অবস্থান— আগে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো হবে এবং তার পর বাইরে পাঠানোর বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা হবে।
নাগরিকদের এলপিজি-র পরিবর্তে পিএনজি (পাইপ্ড প্রাকৃতিক গ্যাস) পরিষেবা গ্রহণ করতে অনুরোধ করেছেন সুজাতা। কেন্দ্রের তরফে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে চিঠি লিখে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে এলপিজি থেকে পিএনজি-তে রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ায় তা সহায়তা করে।