Indian Railways

Indian Railway: পণ্য বহন মসৃণ করতে ওয়াগনে বসবে জিপিএস, সিদ্ধান্ত রেলের

কয়েক মাস আগেই পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে রেকের অভাবে সময়মতো কয়লার জোগান দিতে না-পারার অভিযোগ উঠেছিল রেলের বিরুদ্ধে।

Advertisement

ফিরোজ ইসলাম 

শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২২ ০৫:৩৮
Share:

ওয়াগনে জিপিএস (গ্লোবাল পজ়িশনিং সিস্টেম) প্রযুক্তি বসাতে চায় রেল

কয়েক মাস আগেই পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে রেকের অভাবে সময়মতো কয়লার জোগান দিতে না-পারার অভিযোগ উঠেছিল রেলের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি হস্তক্ষেপ করতে হয় রেলকর্তাদের। অন্যান্য পণ্য পরিবহণের বরাত সাময়িক ভাবে কাটছাঁট করে, রেলকে কয়লার পর্যাপ্ত রেকের বন্দোবস্ত করতে হয়।

Advertisement

পণ্য পরিবহণে ওয়াগন ও রেকের কৃত্রিম অভাব ঘোচাতে এ বার ওয়াগনে জিপিএস (গ্লোবাল পজ়িশনিং সিস্টেম) প্রযুক্তি বসাতে চায় রেল। এর ফলে সব ওয়াগনের অবস্থান জানতে পারবে রেল। রেলের হাতে থাকা খালি ওয়াগনের সংখ্যা নির্ণয় করাও সহজ হবে।

চলতি অবস্থায় সব ওয়াগনে জিপিএস প্রযুক্তি বসাতে ৬০০ কোটি টাকা লাগতে পারে বলে রেলের অনুমান। ৩০ হাজারেরও বেশি ওয়াগনে ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। আগামী তিন বছরে পণ্য পরিবহণের চাহিদা মেটাতে আরও এক লক্ষ ওয়াগন কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে রেল সূত্রের খবর। সে-ক্ষেত্রে ওই প্রযুক্তি বসানোর খরচ বাড়তে পারে। রেল আধিকারিকদের একাংশে জানান, শুরুতে ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট ওয়াগনে ওই প্রযুক্তি বসানো হবে। পরে তা ব্যবহার করা হবে অন্যত্র। এক রেলকর্তা বলেন, ‘‘যে-কোনও মুহূর্তে ওয়াগনের ভৌগোলিক অবস্থান জানা ছাড়াও তার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে ওই প্রযুক্তি।’’

Advertisement

এত দিন আরএফআইডি প্রযুক্তির সাহায্যে নির্দিষ্ট সাইডিংয়ে রেকের প্রবেশ বা প্রস্থানের তথ্য মিলত। নতুন ব্যবস্থায় একটি রেকের প্রতিটি ওয়াগনেরই অবস্থান জানা যাবে। ফলে কোনও খালি রেক থেকে ওয়াগন কাটা বা জোড়া হলেও তা কোথায় পড়ে আছে, তা জানা সম্ভব হবে।

এত দিন কোনও রেক পণ্য খালাস করার পরে এবং তার ফিরে আসার মধ্যে বেশ কয়েক দিন পেরিয়ে যেত। রেক আবার তার আগের জায়গায় ফিরে আসার আগে পর্যন্ত তার মধ্যে থাকা ওয়াগনের হদিস মিলত না। ফলে প্রায়ই ওয়াগনের কৃত্রিম অভাব দেখা দিত। একই সঙ্গে খালি ওয়াগন সম্পর্কে তথ্য না-থাকায় তার সর্বাধিক ব্যবহার সম্ভব হত না। ওই সমস্যা দূর করতেই রেল এ বার সব পণ্যবাহী ওয়াগনে জিপিএস প্রযুক্তি বসাতে চাইছে। এর ফলে নির্দিষ্ট ওয়াগনের অবস্থান নির্ণয় করা সহজ হবে। রেলের নিজের হাতে থাকা ওয়াগনের সংখ্যার হিসেব রাখা ছাড়াও পণ্য পরিবহণের জন্য যে-সংস্থা ওয়াগন ভাড়া করছে, তাদেরও প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে সুবিধা হবে। সংশ্লিষ্ট জ়োন ছাড়াও কেন্দ্রীয় ভাবে রেল বোর্ডের কাছে সেই তথ্য থাকবে। পণ্য পরিবহণ খাতে আয় বাড়াতে রেল আগের চেয়ে অনেক বেশি তৎপরতা বাড়িয়েছে। ‘হাংরি ফর কার্গো’ স্লোগানও দিতে শুরু করেছে তারা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement