ভারতীয় নাবিক আদিত্য শর্মা। হরমুজ়ের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হানায় নিহত হত তিনি। —ফাইল চিত্র।
ওমান উপকূলে থাকা ‘সেটেবেলো’ ট্যাঙ্কারকে দু’বার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। বাড়িতে শেষ বার ফোনে কথা বলার সময়ে এমনটাই জানিয়েছিলেন হামলায় নিহত ভারতীয় নাবিক আদিত্য শর্মা। গত মঙ্গলবার পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি সেটেবেলো’তে হামলা চালায় মার্কিন নৌসেনা। হামলায় তিন জন ভারতীয় নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন হিমাচল প্রদেশের ২৩ বছর বয়সি আদিত্যও।
নিহত ভারতীয় নাবিকের বাবা রাজেশ শর্মা ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে জানান, আদিত্যের সঙ্গে তাঁর প্রায় প্রতিদিনই কথা হত। তিনি বলেন, “রবিবার এক হোয়াটসঅ্যাপ কলে ও আমাকে বলল, গত ১৫ দিনে মার্কিন নৌবাহিনীর কাছ থেকে ওরা অন্তত দু’বার হুঁশিয়ার-বার্তা পেয়েছে। ওদের জাহাজ তখনও হরমুজ প্রণালীর দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। শুনে আমরা চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। ওই দিনই ওদের কাছাকাছি আরও একটি জাহাজে হামলা হয়েছিল। কিন্তু ও আমাদের চিন্তা না করার জন্য বলেছিল। জানিয়েছিল ওই জাহাজের সব নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।”
গত মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ‘সেটেবেলো’। জাহাজটিতে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা গেলেও আদিত্য-সহ তিন জনের খোঁজ মিলছিল না। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী জানান, ওমান উপকূলের ওই হামলায় তিন জনই নিহত হয়েছেন। মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ এবং বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে এগোনোর চেষ্টা করছিল জাহাজটি। সেই কারণেই ওমান উপকূলে ওই জাহাজে হামলা করা হয়েছে।
আদিত্য নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা খবর পান, ছেলের মৃত্যু হয়েছে। রাজেশ বলেন, “দূতাবাস থেকে ভারত সরকারকে বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু ওর দেহ পাওয়া গিয়েছে কি না, তা আমরা এখনও জানি না।” সন্তানের দেহ যাতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়, সেই আর্জি জানিয়েছেন তিনি সরকারের কাছে। রাজেশ আরও বলেন, “আমি জানতে চাই শেষ মুহূর্তগুলোতে কী ঘটেছিল। কী পরিস্থিতি ছিল, ওকে উদ্ধার করার জন্য কোনও চেষ্টা করা হয়েছিল কি না।”
ওই হামলার পরে বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলে ফের মার্কিন বাহিনীর হামলার মুখে পড়ে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। সেটি ওমানের সিনাস বন্দরের কাছে ছিল। সেই সময় হামলার মুখে পড়ে জাহাজটি। ওমানে ভারতীয় দূতাবাস থেকে এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি জাহাজে ‘হামলা’ হয়েছে। তবে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।