Iranian Oil

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতেই ইরানের তেল কিনতে উৎসাহী ভারতীয় তৈলশোধনাগারগুলি! অপেক্ষা শুধু কেন্দ্রের অনুমতির

শুক্রবার মার্কিন প্রশাসনের তরফে নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড়ের বিষয়টি জানানো হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে যে জ্বালানি সঙ্কট এবং দাম বৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতেই আপাতত সাময়িক ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ১৩:১১
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের ‘অবরোধের’ কারণে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ভারতও ঘাটতির আশঙ্কায় রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ইরানের তেলের উপর চাপানো নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে আমেরিকা। তার পরেই ইরান থেকে তেল কেনার বিষয়ে তোড়জোড় শুরু করল ভারতীয় সংস্থাগুলি। ভারতীয় তৈলশোধনাগারগুলি চায়, এ বার ইরান থেকে তেল আসুক ভারতে। তবে এ বিষয়ে ভারত সরকার কী পদক্ষেপ করে, সে দিকে তাকিয়ে সংস্থাগুলি।

Advertisement

সংবাদসংস্থা রয়টার্স তিনটি ভারতীয় তৈলশোধনাগার সংস্থার সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর ইরানের তেল কেনার বিষয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। তবে ইরানের থেকে তেল কেনার বিষয়ে সরকারের সবুজ সঙ্কেতের প্রয়োজন। সেই বিষয় নিয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে বলেও জানাচ্ছে ওই সূত্রগুলি। শুধু ভারত নয়, এশিয়ার অন্য দেশগুলি একই পথে হাঁটতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

শুক্রবার মার্কিন প্রশাসনের তরফে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে যে জ্বালানি সঙ্কট এবং দাম বৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতেই আপাতত নিষেধাজ্ঞা তোলা হচ্ছে। আমেরিকা এ-ও স্পষ্ট করে দেয়, এই ‘ছাড়পত্র’ ৩০ দিনের জন্য। সমুদ্রপথে ইরানের তেল আমদানি করতে পারবে দেশগুলি।

Advertisement

আমেরিকা মনে করে, সঙ্কটকালে ইরানের থেকে কম দামে তেল কিনে মজুত করছে চিন! মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্টের কথায়, ‘‘এই শৃঙ্খল ভাঙতেই আমরা ইরানের তেলের উপর চাপানো নিষেধাজ্ঞা সাময়িক প্রত্যাহার করছি।’’ তাঁর মতে, ‘‘নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ফলে বিশ্ব বাজারে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল আসবে, যা জ্বালানি সরবরাহের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে।’’ মার্কিন অর্থসচিব জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক ভাবে প্রত্যাহার করা হচ্ছে কেবল সেই সব তেলের ক্ষেত্রেই, যা সমুদ্রপথে রয়েছে। বেসেন্টের দাবি, বিশ্বের জ্বালানির বাজারে তৈরি হওয়া সঙ্কট দূর করতে বদ্ধপরিকর আমেরিকা।

মার্চের শুরুতে আমেরিকার প্রশাসন রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ছাড় দেয় ভারতকে। তবে শর্ত একটাই, এই ছাড় কেবল সমুদ্রপথে আটকে থাকা তেলের ট্যাঙ্কার বা জাহাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। বাণিজ্য-সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই আমেরিকা বার বার দাবি করে আসছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছে ভারত। যদিও নয়াদিল্লি সরাসরি এ নিয়ে কোনও মন্তব্য না-করলেও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে তেল আমদানি করা হবে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে আরও বেশি করে অপরিশোধিত তেল কেনা শুরু করে ভারত। এ বার ভারতীয় তৈলশোধনাগারগুলির নজর ইরানের তেলের দিকে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই পরিস্থিতিতে ইরান থেকে তেল ভারতে এলে, ঘাটতি মিটবে অনেকটাই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement