Lucknow Coaching Centre Fire

ঢোকার পথ ছিল না! থমকে গিয়েছিল লখনউয়ের কোচিং সেন্টারের উদ্ধারকাজ, দেওয়াল ভেঙে বার করতে হয় লাশ

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিয়ো দেখা যায়, দমকলকর্মীরা ইটের দেওয়াল ভেঙে তার ভিতর দিয়ে জলের পাইপ ঢুকিয়ে আগুন নেবানোর চেষ্টা করছেন। আবার অন্য দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, দমকলকর্মীরা গর্তের মধ্যে দিয়ে স্টেচারে করে মৃতদেহ বার করে আনছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ২১:২৩
Share:

লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন। ছবি: পিটিআই।

দাউ দাউ করে জ্বলছে চারপাশ। সেই সঙ্গে গলগল করে বার হচ্ছে কালো ধোঁয়া। দমকল থেকে উদ্ধারকারী দল প্রথমে বুঝতেই পারছিল না কী ভাবে ভিতরে ঢুকবে? কী ভাবে উদ্ধারকাজ চালাবে? লখনউয়ের অলিগঞ্জ এলাকার কোচিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বার বার বাধার মুখে পড়তে হয় উদ্ধারকারী দলকে।

Advertisement

তিন তলার বিল্ডিং। নীচের তলায় পোষ্য জীবজন্তুর দোকান ছিল। উপরে ছিল কোচিং সেন্টার। জানা গিয়েছে, সেখানে অ্যানিমেশন সেন্টার ছিল। বহু কিশোর-কিশোরীরা সেখানে অ্যানিমেশন শিখতে যেত। সোমবার দুপুরে যখন আগুন লাগে, তখন ওই বিল্ডিংয়ে অনেক পড়ুয়াই ছিল। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় পড়ুয়াদের মধ্যে। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে বিল্ডিংয়ের জালনা ভেঙে নীচে ঝাঁপ দেয়। কেউ কেউ পিছনের দিক দিয়ে বার হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু অনেকেই ধোঁয়া এবং আগুনের তীব্রতার কারণে পথ হারিয়ে আটকা প়ড়ে যায়। তাদের উদ্ধার করতে বেশ বেগ পেতে হয় উদ্ধারকারী দলকে।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া দৃশ্যে দেখা যায়, দমকলকর্মীরা ইটের দেওয়াল ভেঙে তার ভিতর দিয়ে জলের পাইপ ঢুকিয়ে আগুন নেবানোর চেষ্টা করছেন। আবার অন্য দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, দমকলকর্মীরা গর্তের মধ্যে দিয়ে স্টেচারে করে মৃতদেহ বার করে আনছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিবন্ধকতার কথা স্বীকার করেছেন উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। প্রায় প্রথম থেকেই ঘটনাস্থলে ছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘ভিতরে প্রবেশের কোনও পথ ছিল না। ভিতরে ঢোকার জন্য দেওয়াল ভাঙতে হয় উদ্ধারকারী দলকে।’’

Advertisement

সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারকারীরা পাশের একটি বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে উদ্ধারকাজ চালান। সেখান থেকে কোনওক্রমে আহতদের বার করার চেষ্টা করেন তাঁরা। ওই পথেই একে একে দেহ বার করা হয়। অন্য দিকে, আগুন নেবানোর নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যায় দমকল। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটিতে দু’টি বড় গর্ত করতে হয়। তার পরে সেই গর্ত দিয়ে ভিতরে ঢুকতে পারেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যেরা।

এখনও পর্যন্ত ওই অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তাদের অধিকাংশই পড়ুয়া। বেশ কয়েক জনকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ। কী ভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণাও করেছেন আদিত্যনাথ। পরিবারপিছু পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেওয়া কথা জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের তরফে। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনিও নিহতদের পরিবার পিছু দু’লক্ষ টাকা করে সাহায্যের ঘোষণা করেছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement