প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: ইটালির প্রধানমন্ত্রীর সমাজমাধ্যম পাতা থেকে।
ইটালির প্রধানমন্ত্রীকে জর্জিয়া মেলোনিকে ‘পার্লে মেলোডি’ চকোলেট উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মেলোনি সেই উপহারের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতেই হইচই পড়ে গিয়েছে দালাল স্ট্রিটে। ‘পার্লে’-র শেয়ার কেনার ধুম পড়ে গিয়েছে। হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে সংস্থার শেয়ারদর। কিন্তু এই ‘পার্লে’, সেই ‘পার্লে’ নয়। সমনামী অন্য এক সংস্থার শেয়ার কিনেছেন বাজারে লগ্নিকারীরা, যার সঙ্গে ‘মেলোডির’ কোনও সম্পর্কই নেই।
বুধবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে (ভারতীয় সময়ে) নিজের সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো পোস্ট করেন মেলোনি। মোদীর কাছ থেকে ‘মেলোডি’ উপহার পাওয়ার ভিডিয়ো। ১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োই হইচই ফেলে দেয় শেয়ার বাজারে। ভিডিয়ো পোস্ট হওয়ার আধ ঘণ্টার মধ্যে লাফিয়ে বৃদ্ধি পায় ‘পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ়’-এর শেয়ারদর। তবে এই সংস্থার সঙ্গে ‘মেলোডি’র কোনও যোগ নেই। ‘পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ়’ মূলত রিয়্যাল এস্টেট এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া কাগজ, কাগজের বর্জ্য থেকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যও তৈরি করে এরা।
অন্য দিকে, ‘মেলোডি’ চকোলেট তৈরি করে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সংস্থা— পার্লে প্রোডাক্ট্স। এটি ১৯৯৯-২০০০ সাল পর্যন্ত পার্লে-বিসলেরি লিমিটেডের অধীনস্থ একটি সংস্থা ছিল। তবে এখন এর সঙ্গে পার্লে গোষ্ঠীরও কোনও যোগ নেই, বিসলেরি গোষ্ঠীরও যোগ নেই। এই পার্লে প্রোডাক্ট্স শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোনও সংস্থাও নয়। দুই সংস্থার নামের সঙ্গেই ‘পার্ল’ জুড়ে থাকায় লগ্নিকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ বারের ইউরোপ সফরের শেষ পর্বে ইটালিতে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বুধবার ভোরে ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে তিনি রোমের কলোসিয়ামে যান। সেখানে নিজস্বীও তোলেন দুই রাষ্ট্রনেতা। পরে মোদীর সঙ্গে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন মেলোনি। ‘পার্লে মেলোডি’র চকোলেট হাতে মেলোনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী আমার জন্য একটা উপহার এনেছেন। দারুণ টফি।” এর পরে মোদী-মেলোনি একসঙ্গে বলেন, “মেলোডি”। শেষে দু’জনেই হেসে ফেলেন। ওই ভিডিয়ো মেলোনি পোস্ট করতেই হইচই পড়ে যায় শেয়ার বাজারে।