শিবরাজ সিংহ চৌহান
বিমানে চেপে ভোপাল থেকে অমদাবাদ গেলেন বিজয় রূপাণীর শপথ অনুষ্ঠানে। কিন্তু শপথে যোগ না দিয়েই ফিরে গেলেন মধ্যপ্রদেশে। অপেক্ষা করেননি নরেন্দ্র মোদী আসা পর্যন্তও। গত কাল মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানের এই রহস্যময় যাওয়া-আসা নিয়ে কাল থেকেই সরগরম ছিল রাজনীতির অলিন্দ। আজ দেখা গেল শিমলায় জয়রাম ঠাকুর সরকারের শপথেও গরহাজির তিনি।
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি বিজেপির অন্দরে সব ঠিক নেই? শিবরাজ কি অসন্তুষ্ট? নাকি ভোটের আগে পদ খোয়ানোর ভয় তাড়া করছে তাঁকে? শিবরাজ নিয়ে জলঘোলা হতেই আজ তাঁকে ডেকে পাঠান খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাতে জল্পনা বাড়ে আরও। রাতে মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পরে শিবরাজ জানান, কয়েকটি প্রকল্পের ব্যাপারে কথা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।
দলের একাধিক সূত্র কিন্তু বলছে অন্য কথা। শিবরাজ আসলে ভেবেচিন্তেই নিজের অসন্তোষকে এ ভাবে প্রকাশ্যে এনেছেন। যাতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও অস্বস্তিতে পড়ে তাঁর বক্তব্য শুনতে বাধ্য হন। প্রদেশ সংগঠনে যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এমনকী যে সব কেন্দ্রীয় নেতাদের হাতে মধ্যপ্রদেশের ভার দেওয়া হয়েছে, তাঁরা সে ভাবে আমল দিচ্ছেন না শিবরাজকে। দলে তাঁর বিরোধীরাই বরং গুরুত্ব পাচ্ছেন।
মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে শিবরাজ অবশ্য আজ দাবি করেন, পূর্বনির্ধারিত দু’টি জনসভায় হাজির থাকতেই আগেভাগে চলে আসতে হয়েছিল তাঁকে। শিবরাজের বক্তব্য, গত কাল মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণী ও উপমুখ্যমন্ত্রী নিতিন পটেলকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে আসেন তিনি। তার পরে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের কাছ থেকে ‘অনুমতি নিয়েই’ ফিরে যান নিজের রাজ্যে। শিবরাজের দফতর থেকেও ফলাও করে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর সারা দিনের কর্মসূচির ছবি-ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
কিন্তু এটাই কি পুরো সত্য! তবে আজ কেন তিনি শিমলায় জয়রাম ঠাকুরের শপথে গরহাজির রইলেন?
বিজেপির এক নেতার বক্তব্য, সম্প্রতি চিত্রকূটের উপনির্বাচনে পুরো শক্তিতে ঝাঁপিয়েও দলের প্রার্থীকে জেতাতে পারেননি শিবরাজ। কংগ্রেস জিতেছে সেই আসনে। আগামী বছরের শেষে বিধানসভা ভোট। তার আগে আরও দুটি উপনির্বাচন রয়েছে। সে দু’টিতে হারলে মুখ পুড়বে শিবরাজের। এমনিতেই ঘরের শত্রু কম নয়। ঘাড়ের উপরে নিশ্বাস ফেলছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, প্রভাত ঝায়ের মতো নেতারা। ভোটে হারলে কোন সময়ে মুখ্যমন্ত্রিত্ব খোয়া যায়, সেই ভয়েই কাঁটা হয়ে আছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই দশা দেখে আসরে নেমেছে কংগ্রেসও। মধ্যপ্রদেশ থেকে আসা কংগ্রেসের নেতা কমল নাথ বলেন, রহস্যজনক ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর ফেরত যাওয়াতেই স্পষ্ট, তিনি গদি খোয়ানোর ভয়ে আছেন। শিবরাজের জমানায় কৃষকেরা অসন্তুষ্ট। মোদীর রাজ্যে গ্রামে বিজেপির যে হাল হয়েছে, মধ্যপ্রদেশেও তা হবে। আসন্ন উপনির্বাচনেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।