Gangasagar Mela

প্রথম বার গঙ্গাসাগর মেলায় হাজির তৃতীয় লিঙ্গের সাধুরা, মকর সংক্রান্তিতে ৮৫ লক্ষ পুণ্যার্থীর আগমন!

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত পুণ্যস্নানের শুভ লগ্ন রয়েছে। তাই রাতের মধ্যেই এক কোটি পুণ্যার্থী জড়ো হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২২
Share:

মকরস্নানের জন্য ভিড় গঙ্গাসাগর মেলায়। ছবি: পিটিআই।

জমজমাট গঙ্গাসাগর মেলা। মকর সংক্রান্তিতে পুণ্যস্নানে করতে হাজির হলেন ৮৫ লক্ষ মানুষ। তবে বুধবার রাতে আরও বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী হাজির হবেন বলে দাবি প্রশাসনের। অন্য দিকে, এ বারই প্রথম গঙ্গাসাগরে উপস্থিত হয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের সাধুরা। তাঁদের ঘিরে চোখে পড়ার মতো উন্মাদনা দেখা গেল ভক্ত এবং পুণ্যার্থীদের মধ্যে।

Advertisement

মকর সংক্রান্তির দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ৩টে পর্যন্ত অন্তত ৮৫ লক্ষ মানুষ গঙ্গাসাগরে উপস্থিত হয়েছেন। যত বেলা বাড়ছে ভিড় বাড়ছে। এখনও প্রচুর মানুষ বিভিন্ন জেলা তথা রাজ্য থেকে গঙ্গাসাগরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত পুণ্যস্নানের শুভ লগ্ন রয়েছে। তাই রাতের মধ্যেই এক কোটি পুণ্যার্থী জড়ো হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণ পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অতিথি, পুণ্যার্থীদের থাকারও অভাব হবে না। তাঁর দাবি, ‘‘ভিন্‌রাজ্যের পুণ্যার্থীরাও আমাদের ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মেলায় প্রায় ১৫০টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, প্রায় ১০ হাজার কর্মী নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।’’

গঙ্গাসাগর মেলায় এ পর্যন্ত এক জন পুণ্যার্থীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। মৃত ব্যক্তি অসমের বাসিন্দা। নাম মিঠু মণ্ডল। তা ছাড়া অসুস্থ হয়ে পড়া ৫ জন পুণ্যার্থীকে এয়ারলিফট্ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন, মন্ত্রী, আধিকারিক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা রাস্তায় নেমে কাজ করছেন।

Advertisement

এই প্রথম আখড়া পেলেন কিন্নর সাধুরা। —নিজস্ব ছবি।

এক সাগরমেলার নানা রূপ। প্রতিবারের মতো এ বারেও প্রচুর সাধু-সন্ন্যাসী জড়ো হয়েছেন। ছাইভস্ম মাখা গায়ে এলইডি আলো জড়িয়ে হাজির ‘লাইটবাবা’ও। তবে এই প্রথম বার আখড়া পেলেন কিন্নর সাধুরা। তৃতীয় লিঙ্গের সাধুদের বিশেষ আখড়া দেখতে উপছে পড়ছে ভক্তদের ঢল। এতদিন গঙ্গাসাগর মেলায় তাঁরা আলাদা আলাদা আসতেন। নিজস্ব কোনও আখড়াও ছিল না। তবে এ বার অন্য সাধুদের সহযোগিতায় কিন্নর সাধুরা গঙ্গাসাগরে আখড়া পেয়েছেন। মোট ১২ জন কিন্নর সাধু এসেছেন জুনা আখড়ায়। অন্য দিকে, নাগা সন্ন্যাসীদের দাবি, ভাতার পাশাপাশি বিদ্যুতের বিল, পানীয় জলের একটা বন্দোবস্ত করে দিক রাজ্য সরকার।

বিপুল সাধু, ভক্ত, দর্শনার্থীর সমাবেশ যাতে সুষ্ঠু ভাবে হয়, সে দিকে কড়া নজর রেখেছে প্রশাসন। মকরের তিথিতে সাগরের পবিত্র জলে ডুব দিয়ে কপিল মুনির মন্দিরে পুজো দিয়ে যাঁরা পুণ্যস্নান করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement