সঞ্জু স্যামসন (বাঁ দিকে) এবং গৌতম গম্ভীর। ছবি: পিটিআই।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুর দিকে অভিষেক শর্মা বার বার ব্যর্থ হওয়ার পরেও তাঁকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল না। খেলতে পারছিলেন না তিলক বর্মাও। তবু সুযোগ পাচ্ছিলেন না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৯৭ রান করে ভারতকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তোলার পর সেই সঞ্জু স্যামসনকেই ‘বিশ্বমানের ক্রিকেটার’ বললেন গৌতম গম্ভীর।
ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে এসে গম্ভীর বলেন, “সঞ্জু স্যামসন বিশ্বমানের ক্রিকেটার। ঠিক যখন দলের দরকার, তখনই ও খেলে দেয়। এই পিচ সঞ্জু ভাল করেই জানত। আশা করি ভবিষ্যতে সঞ্জুর থেকে এ রকম ইনিংস আরও দেখতে পাব। এই ইনিংস নিশ্চিত ভাবে ওকে অনেকটা আত্মবিশ্বাসী করবে।”
গম্ভীর আরও বলেছেন, “সঞ্জু কখনওই তাড়াহুড়ো করে রান তুলতে যায়নি। নিখুঁত ক্রিকেটীয় শট খেলেছে গোটা ইনিংসে। প্রতিটা বল দেখে দেখে মারছিল। নেটেও ও এ ভাবেই খেলে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, নেটে ভাল খেললে ম্যাচেও ভাল খেলার আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়। জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে অনেকেই হয়তো ওর স্কোর নিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু ওই ২৩-২৪ রানও আমার মনে হয় ওকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটা কঠিন সিরিজ় গিয়েছিল ওর। কিন্তু সঞ্জুর প্রতিভা কতটা সেটা আমরা সকলেই জানতাম। নেটে ওর ব্যাটিং দেখে আমার খুবই ভাল লেগেছে। দলে ঈশান এবং সঞ্জুর মতো দু’জন ক্রিকেটার থাকা খুবই ভাল।”
নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ় সঞ্জু রান পাননি। তার পরে সঞ্জুর সঙ্গে কিছু আলোচনা হয়েছিল? গম্ভীরের জবাব, “আমার সঙ্গে সকলের আলোচনা হয়। এই দলে যারা রয়েছে তারা সকলেই বিশ্বমানের ক্রিকেটার। তাই দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। আমরা জানি সঞ্জুর প্রতিভার ব্যাপারে। টি-টোয়েন্টিতে তিনটে শতরান তো সকলের থাকে না। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে কঠিন সিরিজ় যাওয়ার পর একটু বিরতি দেওয়া দরকার ছিল। আমরা জানতাম বিশ্বকাপে যখনই সঞ্জুকে দরকার, ও ঠিক খেলে দেবে। জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধেও প্রথম তিন ওভারে যথেষ্ট ভাল খেলেছে। আশা করি আগামী দিনেও ধারাবাহিক ভাবে ভাল খেলবে সঞ্জু।”
বিশ্বকাপের আগে দু’টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় খেলেছে ভারত। তার থেকে বিশ্বকাপ অনেকটাই আলাদা বলে মনে করেন গম্ভীর। তাঁর মতে, বিশ্বকাপে ফিরে আসার সময় খুব কম পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন, “দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় এবং বিশ্বকাপ আলাদা। চাপ, প্রত্যাশা, পরিস্থিতি সবই আলাদা থাকে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ে প্রত্যাবর্তনের জায়গা থাকে। বিশ্বকাপে থাকে না। লোকে চায় আমরা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ের মতো একই রকম ক্রিকেট খেলি। কিন্তু বিশ্বকাপে যে চাপ থাকে সেটাও বোঝা উচিত। বেশির ভাগই মরণ-বাঁচন থাকে। কখনও কখনও পিচও ঠিক থাকে না। তাই কার কী স্ট্রাইক রেট সেটা নিয়ে ভাবি না। কে কী রকম পরিকল্পনা নিয়ে নামছে সেটার দিকে লক্ষ্য রাখি না।”
ইডেনে যে ১৯৬ রান তাড়া করে ফেলবে দল, সে ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন গম্ভীর। ভারতের কোচ বলেছেন, “এক বারের জন্যও মনে হয়নি রান তাড়া করতে পারব না। এই মাঠে রান তাড়া যে খুব কঠিন নয় সেটা জানি। আমি নিজেও ইডেনে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। হাতে উইকেট থাকলে এই মাঠে যে কোনও রান তাড়া করা যায়। আইপিএলে তো ২৬০-২৭০ রানও তাড়া করে জিতেছে দল। আজ জুটি গড়া দরকার ছিল। সেটা হয়েছে এবং জুটিই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।”