Jharkhand Plane Crash

যুবককে বাঁচাতে আট লক্ষ টাকা ধার করে চার্টার্ড বিমান ভাড়া করে দিল্লি যাচ্ছিল ঝাড়খণ্ডের পরিবার, সব শেষ হল দুর্ঘটনায়

কী ভাবে এই বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাঁচী বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিনোদ কুমার জানান, খারাপ আবহাওয়ার কারণেই সম্ভবত দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না-হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত ভাবে বলা সম্ভব নয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৮
Share:

ভেঙে পড়া সেই বিমান। ঝাড়খণ্ডের চাতরায়। ছবি: সংগৃহীত।

বাড়ির ছেলেকে প্রাণে বাঁচাতে আট লক্ষ টাকা ধার করেছিল পরিবার। ওই টাকায় মেডিক্যাল চার্টার্ড বিমান ভাড়া করে অগ্নিদগ্ধ যুবককে দিল্লি উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন পরিবারের সদস্যেরা। কিন্তু মাঝ-আকাশেই স্বপ্নভঙ্গ হল। সোমবার সন্ধ্যায় ঝাড়খণ্ডের চাতরায় ভেঙে পড়ে ওই বিমানটি। ওই যুবক-সহ বিমানে থাকা সাত জনেরই মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement

ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলার চান্দোয়ার বাসিন্দা বছর একচল্লিশের সঞ্জয় কুমার। বাড়ির কাছেই তাঁর একটি ছোট হোটেল রয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি শর্ট সার্কিট থেকে ওই হোটেলে আগুন লাগে। সেই সময় ভিতরে ছিলেন সঞ্জয়। দেহের ৬৩ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল তাঁর। শারীরিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে থাকে। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করানোর পরেও শারীরিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সুচিকিৎসার আশায় সঞ্জয়কে দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নেয় তাঁর পরিবার।

সঞ্জয়ের ভাই অজয় জানিয়েছেন, আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিতদের কাছে চেয়েচিন্তে আট লক্ষ টাকা জোগাড় করা গিয়েছিল। সেই টাকা দিয়েই চার্টার্ড বিমান ভাড়া করা হয়। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচী থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ‘রেডবার্ড এয়ারওয়েজ়’-এর ওই মেডিক্যাল চার্টার্ড বিমানটি। ওড়ার পরে কলকাতা এটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমানটি। আবহাওয়াজনিত কারণে যাত্রাপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার অনুরোধও করে। এর পরে সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে কলকাতা এটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিমানটির। তার কিছু ক্ষণ পরে ঝাড়খণ্ডের চাতরায় বিমানটি ভেঙে পড়ে।

Advertisement

বিমানে সঞ্জয় ছাড়াও ছিলেন তাঁর স্ত্রী অর্চনা দেবী, আত্মীয় ধ্রুব কুমার। বিমানটি চালাচ্ছিলেন ক্যাপ্টেন বিবেকবিকাশ ভগত, সহকারী পাইলট হিসাবে ছিলেন সবরাজদীপ সিংহ। বিমানে ছিলেন বিকাশকুমার গুপ্ত নামে এক চিকিৎসক, সচিনকুমার মিশ্র নামে এক প্যারামেডিক। ভেঙে পড়া বিমান থেকে উদ্ধার হওয়া সাতটি দেহই ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কী ভাবে এই বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাঁচী বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিনোদ কুমার জানান, খারাপ আবহাওয়ার কারণেই সম্ভবত দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না-হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত ভাবে বলা সম্ভব নয়। কী ভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্তকারী সংস্থা এএআইবি-র প্রতিনিধিদলকে পাঠানো হচ্ছে দুর্ঘটনাস্থলে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement