—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
খুনের মামলা। মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টে শুনানি চলছে। আদালত কক্ষে খুনে অভিযুক্ত বৃদ্ধা মহিলাকে বিচারপতি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘‘আপনি আপনার স্বামীকে তড়িদাহত করে মেরেছেন। ময়না তদন্তের রিপোর্ট নিয়ে আপনার কিছু বলার আছে?’’ উত্তরে ৬০ বছর বয়সি রসায়নের অধ্যাপিকা যা বললেন, তাতে স্তম্ভিতবিচারপতিরা। মমতা পাঠক নামে অভিযুক্ত মহিলা তাঁর রসায়নের জ্ঞান একত্রিত করে বলেন, ‘‘আগুনে পোড়া ক্ষত না বিদ্যুতে পোড়া ক্ষত, তা কিছুতেই ময়নাতদন্তে বোঝাসম্ভব নয়।’’
বিচারপতি বিবেক আগরওয়াল ও বিচারপতি দেবনারায়ণ মিশ্রের বেঞ্চের সামনে মমতা বোঝাতে শুরু করেন, বিদ্যুস্পৃষ্ট হলে দেহের কলাকোষের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, কী কী রাসায়নিক বদল ঘটে ইত্যাদি। একমাত্র গবেষণাগারে পরীক্ষা করলেই যে তা বোঝা সম্ভব এবং কী ভাবে সম্ভব, সেই জটিল ব্যাখ্যাও দেন মমতা। তাঁর কথায়, ময়না তদন্তে শুধুমাত্র চোখের দেখায় এ সব বোঝা সম্ভব নয়।
২০২১ সালের ২৯ এপ্রিল মধ্যপ্রদেশের ছত্তরপুরে খুন হন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চিকিৎসক নীরজ পাঠক। অভিযোগ ওঠে, তাঁর স্ত্রী মমতা প্রথমে স্বামীকে ঘুমের ওষুধ দিয়েছিলেন। তার পর তড়িদাহত করে খুন করেন স্বামীকে। এ সব করে ছেলেকে নিয়ে ঝাঁসি চলে যান। পুলিশের কাছে তিনি বলেছিলেন, ১ মে ঝাঁসি থেকে বাড়ি ফিরে তিনি স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। কিন্তু তদন্তে নীরজের একটি ভয়েস রেকর্ডিং উদ্ধার হয়। তাতে জানা যায়, স্ত্রী নীরজের উপর অত্যাচার করতেন। তাঁদের গাড়িচালকেরবয়ানেও বিষয়টি সত্যতা স্পষ্ট হয়। এ-ও জানা যায়, মমতা ওই গাড়িচালককে বলেছিলেন, ‘বড় ভুল হয়ে গিয়েছে’। তদন্তে ধরা পড়ে, অতীতে নীরজের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন মমতা। যদিও সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। দু’জনের বৈবাহিক সম্পর্কের টানাপড়েনের কথা জানাজানি হতেই মমতাকে কাঠগড়ায় তোলা হয়।
এ দিনের শুনানির পরে বিচারপতিরা রায়দান স্থগিত রেখেছেন। মমতা জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে