রাহুল গান্ধী। — ফাইল চিত্র।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ নিয়ে করা মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন ইলাহাবাদ হাই কোর্টের লখনউ বেঞ্চের বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী। ওই মামলার আবেদনকারী ও বিজেপি কর্মী ভিগ্নেশ শিশিরের সামাজিক মাধ্যমে করা কিছু মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি আজ তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। রাহুলের বিরুদ্ধে মামলাকারী শিশির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতের সম্মানহানি করেছেন বলেও ক্ষোভ জানিয়েছেন বিচারপতি বিদ্যার্থী।
রাহুলের ব্রিটিশ নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে হাই কোর্টে শিশির যে মামলাটি করেছিলেন, তাতে গত ১৭ এপ্রিল লোকসভার বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি বিদ্যার্থী। তবে ১৮ এপ্রিল সেই নির্দেশ স্থগিত করে দেওয়া হয়। হাই কোর্টের দুই পৃষ্ঠার যে নির্দেশ অনলাইনে জানানো হয়, তাতে বলা হয়েছে, অভিযোগ নিয়ে রাহুলের বক্তব্য শোনা যেতে পারে। ২০১৪ সালে জগন্নাথ বর্মা বনাম উত্তরপ্রদেশ সরকারের একটি মামলায় হাই কোর্টের ফুল বেঞ্চ যে রায় দিয়েছিল, তাকে মনে রেখেই বিচারপতি বিদ্যার্থী তাঁর নির্দেশ স্থগিত করেন। এই বিষয়ে সব পক্ষের মতামত জানতেআজ মামলাটি ফের শুনতে চেয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু এর মধ্যেই সমাজমাধ্যমে এই মামলা নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করে বসেন মামলার আবেদনকারী শিশির। সমাজমাধ্যমে অন্যদের মতামত জানতে চেয়ে শিশির লিখেছিলেন, মামলাটি তিনি হাই কোর্টের এই বেঞ্চের সামনে রাখবেন নাকি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হবেন? এই পোস্ট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি বিদ্যার্থী আজ বলেন, ‘‘সমাজমাধ্যমে যে কথা লেখা হয়েছে, তাতে আদালতের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কোর্টের সম্মানহানি করা হয়েছে।’’ বিজেপি কর্মীর শিশিরের উদ্দেশে বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘পিছন থেকে কাদা ছোড়া কি ঠিক? আদালতের বিরুদ্ধে কথা বলা কি ঠিক কাজ হয়েছে? আপনি কী রকম বিবৃতি দিয়েছেন... আপনারা রাজনীতির অঙ্গনে আদালতকে টেনে নামাতে চেয়েছেন।’’ আদালত ভর্ৎসনা করার পর তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সরকারি আইনজীবী এবং ডেপুটি সলিসিটর জেনারেলের কেউই শিশিরের বক্তব্যের সমর্থনে কথা বলেননি। শিশির বিচারপতিকে বোঝাতে চান, রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশের পর তিনি আদালতের প্রশংসা করেছিলেন। বিচারপতি জানিয়ে দেন, কারও থেকে তাঁর প্রশংসা পাওয়ার প্রয়োজন নেই।
রাহুলের বিরুদ্ধে মামলাটিতে উপযুক্ত আইনি সহায়তা না করার জন্যডেপুটি সলিসিটর জেনারেলেরও সমালোচনা করেন বিচারপতি। তাঁর মতে, উপযুক্ত আইনি সহযোগিতা না পাওয়ার কারণেই এফআইআরের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাহুলের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ নিয়ে করামামলাটি এখন ইলাহাবাদ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির সামনে গেল।কোন বেঞ্চে মামলার শুনানি হবে, তা তিনিই ঠিক করবেন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে