বৃহসপতিবার সকালে কর্নাটক বিধানসভায় ভাষণপাঠ করতে যান রাজ্যপাল টি গেহলত। ছবি: সংগৃহীত।
তামিলনাড়ুর পর এ বার কর্নাটক। আরও এক বিজেপিবিরোধী দলশাসিত রাজ্যে প্রকাশ্যে এল সরকার এবং রাজ্যপালের মধ্যে সংঘাত। কর্নাটকের বিধানসভাতেও সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ না পড়েই অধিবেশনকক্ষ ছাড়লেন রাজ্যপাল টি গেহলত। মাত্র দু’লাইনেই নিজের ভাষণ শেষ করেন তিনি। সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ না-করে তিনি সংবিধান ভেঙেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া।
বৃহস্পতিবার সকালে অধিবেশন শুরুর সময়ে বক্তৃতা করার কথা ছিল রাজ্যপাল গেহলতের। ভাষণ পাঠের জন্য বিধানসভায় পৌঁছেও যান তিনি। কিন্তু মাত্র দু’লাইনেই ভাষণ শেষ করেন রাজ্যপাল। তিনি হিন্দিতে বলেন, “আমার সরকার রাজ্যের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন দ্বিগুণ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জয় হিন্দ, জয় কর্নাটক।” এই সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার পরেই নিজের ভাষণ শেষ করেন তিনি। কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ রাজ্যপাল পাঠ না করায় হট্টগোল শুরু হয়ে যায় বিধানসভায়। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ‘ধিক্কার’ স্লোগানও ওঠে।
রাজ্যপাল বিধানসভা ছে়ড়ে চলে যেতেই সিদ্দারামাইয়া অভিযোগ করেন, তিনি সংবিধানবিরুদ্ধ কাজ করেছেন। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকারের তৈরি করা ভাষণ সম্পূর্ণ পাঠ না করে রাজ্যপাল সংবিধান ভেঙেছেন। তিনি সংবিধান অনুসারে কাজ করছেন না। তাঁর এই আচারণের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করব। এই আচরণের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া হবে কি না, তা-ও ভেবে দেখা হবে।”
চলতি সপ্তাহে আরও দুই বিজেপিবিরোধী দল শাসিত রাজ্যেও একই ধরনের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ না করেই বিধানসভার অধিবেশনকক্ষ ছাড়েন রাজ্যপাল আরএন রবি। কেরলের বিধানসভায় সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ করলেও কিছু অংশ ঊহ্য রেখে দেন রাজ্যপাল আরভি অর্লেকর। তার মধ্যে একটি অংশে ছিল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগ। অপর অংশে ছিল রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া কিছু বিল দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকার প্রসঙ্গ।
বস্তুত, কোনও রাজ্যর বিধানসভায় সে রাজ্যের সরকার (মন্ত্রিসভার) লিখে দেওয়া ভাষণই পাঠ করেন রাজ্যপাল। এটিই প্রচলিত প্রথা। তবে অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে এই প্রথা ভাঙার দৃষ্টান্তও রয়েছে। লিখিত ভাষণের কিছু প্রসঙ্গ পাঠ না করা বা ঊহ্য রাখা বা সংযোজন করার মতো ঘটনার নজিরও রয়েছে।