বিরোধীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই ভোট ৭ দফায়

নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে লোকসভা ভোটের সময়ে হানাহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল রাজ্যের বিরোধী দলগুলি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০১৯ ০৩:২০
Share:

নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে লোকসভা ভোটের সময়ে হানাহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল রাজ্যের বিরোধী দলগুলি। কমিশন সূত্রের বক্তব্য, বিরোধীদের সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই সাত দফায় ভোট করানো হচ্ছে রাজ্যে। বিশেষ করে অতীতে পশ্চিমবঙ্গে ভোটে যখন সন্ত্রাসের নজির রয়েছে।

Advertisement

এত দফা ভোট নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, ২০১৪ সালে মাওবাদী সমস্যা থাকা সত্ত্বেও রাজ্যে পাঁচ দফায় ভোট হয়েছিল। গত পাঁচ বছরে রাজ্যে একটিও মাওবাদী হামলার ঘটনা ঘটেনি। তার পরেও কেন সাত দফায় ভোট? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক সংস্থা। আমি কমিশন নিয়ে কিছু বলছি না। এ হল বাংলাকে অশান্ত করার জন্য বিজেপির গেম প্ল্যান। বাংলাকে ওরা সব সময় অসম্মান করে এসেছে। তবে ওদের বুমেরাং হবে। আমাদের ভালই হয়েছে। আমার চাপ কমবে। হাসতে হাসতে প্রচার করব। অসম, উত্তর-পূর্ব, ঝাড়খণ্ড ও অন্যত্র প্রচারে যেতে পারব।’’ তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এত দিন ধরে রাজ্যে নির্বাচন চলে তা হলে উন্নয়নের কাজ কী হবে?’’

সাত দফায় ভোট করিয়ে বিজেপি-কে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অবশ্য খারিজ করে দিয়েছে কমিশন। পাল্টা যুক্তিতে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব ক’টি বিরোধী দল ফুল বেঞ্চের কাছে পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার নজির তুলে ধরেছিলেন। জানিয়েছিলেন, পঞ্চায়েত ভোটের হানাহানিতে একশোর বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। ঘরছাড়া হয়েছেন বহু বিরোধী সমর্থক। এমনকি বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন পর্যন্ত জমা দিতে দেওয়া হয়নি। শেষে আদালতের হস্তক্ষেপে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মনোনয়ন জমা দেন প্রার্থীরা। বিরোধীদের যুক্তি ছিল, তা সত্ত্বেও প্রায় ৩৪ শতাংশ আসন বিরোধী শূন্য ছিল। কমিশন জানিয়েছে, রাজ্য পুলিশের উপরেও বিরোধী দলগুলি আস্থাহীন।

Advertisement

আরও পড়ুন: চেনা মুখই কি ভরসা তৃণমূলের, মমতার বাড়িতে আজ দলের নির্বাচনী কমিটির বৈঠক

কমিশনের মতে, জম্মু-কাশ্মীরের পাশাপাশি বিহার ও পশ্চিমবঙ্গেও রাজনৈতিক হিংসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে ভেঙে ভেঙে ভোট করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরার দাবি, ‘‘নিরাপত্তা, নির্বিঘ্নে ভোট করানো, জনঘনত্ব ও আধা সেনার পাওয়ার উপরে নির্ভর করে ওই রাজ্যগুলিতে সাত দফায় ভোট করানো হচ্ছে। এর পিছনে কোনও রাজনীতি নেই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement