আপের সভামঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে ঝাঁঝালো আক্রমণে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। —নিজস্ব চিত্র।
রাজধানীর বুকে অরবিন্দ কেজরীবালের মঞ্চ থেকে তীব্র হুঙ্কার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দেশে নোট সঙ্কট নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণের সুর সপ্তমে চড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘‘তিন দিন সময় দিলাম, তার মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন। না হলে, আমরা এখনও বেঁচে আছি।’’
৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট কেন্দ্রীয় সরকার আচমকা বাতিল ঘোষণা করার পর থেকে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। সাধারণ মানুষের হয়রানির চিত্র তুলে ধরে মোদী সরকারের সমালোচনায় সরব কংগ্রেস সহ অধিকাংশ বিরোধী দলই। পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি না নিয়ে নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল, প্রশ্ন বিরোধীদের। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও এক ধাপ এগিয়ে বার বার দাবি করছেন, নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরীবালের সমাবেশ মঞ্চে হাজির হয়ে আরও এক বার অত্যন্ত জোর দিয়ে সেই দাবি তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধিতার সুর সপ্তমে চড়িয়ে নরেন্দ্র মোদীকে এ দিন কার্যত চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তীব্র আক্রমণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উচ্ছ্বসিত কেজরীবালও। —নিজস্ব চিত্র।
আপের জনসভায় এ দিন আমন্ত্রিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ চড়া সুরেই তিনি এ দিন ভাষণ শুরু করেন। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ক্রমশন আরও চড়তে থাকে সেই সুর। কিন্তু মমতার এ দিনের মোদী বিরোধিতার সুর যে স্তরে শেষ পর্যন্ত পৌঁছল, নোট সঙ্কট শুরু হওয়ার পর থেকে ততটা ঝাঁঝালো মেজাজে তৃণমূলনেত্রীকে এর আগে দেখা যায়নি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই রকম সঙ্কটে দেশের মানুষ আগে কখনও পড়েননি। ... প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, অচ্ছে দিন আনবেন। আর দেশের মানুষ এখন কাঁদছেন।’’ মমতা বলেন, ‘‘সব্জি পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিশুদের খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষের হাতে টাকা নেই। মানুষ খাবে কী?’’ এর পরেই তুমুল হুঙ্কার দিয়ে মমতার কটাক্ষ, ‘‘মানুষ কি এটিএম খাবে? নাকি কার্ড খাবে?’’
আক্রমণে অরবিন্দ কেজরীবাল। —নিজস্ব চিত্র।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চড়া সুর শুনতে পশ্চিমবঙ্গের জমায়েত অভ্যস্ত। কিন্তু দিল্লির জমায়েতের কাছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এই রণমূর্তি বেশ অচেনা। ফলে মোদীর বিরুদ্ধে মমতার এই রণহুঙ্কার দেখে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন আপ কর্মী-সমর্থকরা। জমায়েতের মেজাজ বুঝে আক্রমণ আরও তীক্ষ্ণ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘এক একটা দিন এক একটা সিদ্ধান্ত! এক দিন বলছে ৪৫০০ টাকা করে বদলানো যাবে। আজ আবার বলছে ২০০০ টাকা বদলানো যাবে। এ দের মাথায় কী আছে?’’ নোট বাতিলের জেরে শুধু দুর্নীতিগ্রস্তদেরই সমস্যা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে সরকারের তরফ থেকে। সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে মমতা বলেন, ‘‘রোজ ব্যাঙ্কের সামনে লাইন দিয়ে যাঁরা দাঁড়িয়ে থাকছেন, তাঁরা চোর? দেশের সবাই চোর, আর তোমরা শুধু সাধু-সন্ত!’’ মমতা বলেন, ‘‘আজ বলছে, টাকা বন্ধ। কাল বলবে, খাওয়া বন্ধ। তার পর বলবে, মাংস বন্ধ। তার পর বলবে বাজার বন্ধ।’’
আরও পড়ুন: মোদীকে রুখতে ভারত পরিক্রমা মমতার
এর পরই সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘তিন দিন সময় দিচ্ছি, তার মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন। আর তা যদি না হয়, মনে রাখবেন আমরা এখনও বেঁচে আছি, দেখা যাবে।’’ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ, ‘‘ভয় দেখাবেন না, এজেন্সি দেখিয়ে ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না। হিম্মত থাকলে জেলে ভরুন। হিম্মত থাকলে গুলি করুন। জেনে রাখুন, ভয় আমরা পাই না, আমরা লড়াই করতে জানি।’’