মৃত তরুণী তনু সিংহ। ছবি: সংগৃহীত।
মজাচ্ছলে স্ত্রীকে সকলের সামনে বাঁদর বলেছিলেন যুবক। সেই সময় তরুণী কোনও কিছু না বলে চুপচাপ ঘরে চলে যান। আত্মীয়-পরিজনেরা গল্পে মশগুল ছিলেন। ফলে তাঁরা খেয়ালই করেননি যে, ঘর থেকে দ্বিতীয় বার বেরিয়ে আসেননি তরুণী। সন্দেহ হওয়ায় তরুণীর স্বামী তাঁকে ডাকতে যান। ঘর ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। জানলা দিয়ে উঁকি মারতেই চিৎকার করে ওঠেন যুবক। দেখা যায়, সিলিং ফ্যান থেকে ওড়নায় ঝুলছেন তরুণী। বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের ইন্দিরানগর থানা এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম তনু সিংহ। তিনি সওয়াদতগঞ্জের লকড়মন্ডীর বাসিন্দা। চার বছর আগে ইন্দিরানগরের তকরোহী এলাকার রাহুল শ্রীবাস্তবের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। একটি অনুষ্ঠানে বন্ধুদের মাধ্যমে পরিচয় হয় তনু এবং রাহুলের। তার পর প্রেম। শেষ দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়। রাহুল পেশায় অটোচালক। স্ত্রী তনুকে নিয়ে ইন্দিরানগরে থাকতেন তিনি। পরিবার সূত্রে খবর, বুধবার সন্ধ্যায় সীতাপুরের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফিরেছিলেন দম্পতি। বাড়িতে আত্মীয়েরাও ছিলেন সেই সময়। হাসি-ঠাট্টা চলছিল। সেই সময়েই সকলের সামনে স্ত্রীকে ‘বাঁদর’ বলেন রাহুল।
স্বামীর মুখে এই শোনার পর চুপচাপ ঘরের ভিতরে চলে যান তনু। কিন্তু এক ঘণ্টা হয়ে যাওয়ার পরেও ঘর থেকে না বেরোনোয় সন্দেহ হয়। তার পরই তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যেরা। তনুর বোন জানিয়েছেন, দিদির মডেলিংয়ের শখ ছিল। তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা করার জন্যই কি আত্মঘাতী হয়েছেন তনু, তা ঘিরে সন্দেহ দানা বাধছে।