Maoist Couple Arrested

নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন, থাকতেন ভাড়াবাড়িতে, ছত্তীসগঢ়ে বসতি এলাকায় ধৃত মাওবাদী দম্পতি, মাথার দাম ১৩ লক্ষ

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত মাওবাদী দম্পতির নাম জগ্গু কুরসাম ওরফে রবি ওরফে রমেশ। এবং তাঁর স্ত্রী কমলা কুরসাম। গত ২৩ সেপ্টেম্বর চাঙ্গোরভট্ট এলাকা থেকে এই দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১২
Share:

মাওবাদী দম্পতি (বাঁ দিকে) জগ্গু কুরসাম এবং (ডান দিকে) কমলা কুরসাম। ছবি: সংগৃহীত।

সাধারণের ভিড়ে এমন ভাবে মিশে ছিলেন তাঁরা, কেউ ঘুণাক্ষরেও আঁচ করতে পারেননি, তাঁদের মাঝেই লুকিয়ে রয়েছেন এক মাওবাদী দম্পতি। তবে সন্দেহ করার অবকাশও দেননি এই দম্পতি। এলাকার মানুষের সঙ্গে একেবারেই সাদামাঠা ভাবে মিলেমিশে থাকতেন। কাজ করতেন নির্মাণশ্রমিকের। থাকতেন ভাড়াবাড়িতে। ছত্তীসগঢ়ের বসতি এলাকা থেকে ওই মাওবাদী দম্পতিকে গ্রেফতার করল রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা (এসআইএ)। আর এই দম্পতির গ্রেফতারির পর স্থানীয়েরা যখন জানতে পারেন যে, তাঁদের মাঝেই নির্মাণশ্রমিক সেজে আত্মগোপন করেছিলেন দুই মাওবাদী নেতা, আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত মাওবাদী দম্পতির নাম জগ্গু কুরসাম ওরফে রবি ওরফে রমেশ। এবং তাঁর স্ত্রী কমলা কুরসাম। গত ২৩ সেপ্টেম্বর চাঙ্গোরভট্ট এলাকা থেকে এই দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের দু’জনের মিলিত মাথার দাম ১৩ লক্ষ টাকা। জগ্গুর মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ টাকা। আর কমলার ৫ লক্ষ টাকা। এই মাওবাদী দম্পতির গ্রেফতারে বড়সড় সাফল্য মিলল বলে রাজ্য তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা মনে করছেন। নির্মাণশ্রমিক সেজে এই দম্পতি তলায় তলায় সংগঠনের কাজ করে চলেছিলেন।

এসআইএ সূত্রে খবর, এই মাওবাদী দম্পতি দীর্ঘ দিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। কখনও রায়পুর, কখনও ভিলাই, কখনও আবার দুর্গ, এ ভাবে কিছু দিন অন্তর অন্তরই জায়গা বদল করে থাকছিলেন তাঁরা। কখনও দিনমজুর, কখনও নির্মাণশ্রমিকের বেশে সাধারণের ভিড়ে এমন ভাবে মিশে যেতেন যে কারও পক্ষেই টের পাওয়া সম্ভব ছিল না। মাওবাদী দম্পতির ভাড়াবাড়ি থেকে ১০ গ্রাম সোনার বিস্কুট, ১ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা নগদ, দু’টি স্মার্টফোন এবং বেশি কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের ফোনের কল রেকর্ড ঘেঁটে দেখা হচ্ছে বলে এসআইএ সূত্রে খবর।

Advertisement

মাওবাদী দম্পতি যে এলাকায় ভাড়া থাকতেন, সেখানকার লোকজনেরা বলেন, ‘‘স্বামী-স্ত্রী কারও সঙ্গে খুব একটা কথা বলতেন না। দোকানের জিনিসও কিনতে আসতেন না। সকালে কাজে বেরিয়ে যেতেন। সন্ধ্যায় ফিরতেন। ওদের সঙ্গে কেউ দেখা করতে এসেছেন, এমনটাও চোখে পড়েনি।’’ এসআইএ সূত্রে খবর, ১১ বছর বয়সেই মাওবাদীদের কাজে যুক্ত হন জগ্গু। দু‌’দশক ধরে বিজাপুরের জঙ্গলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে লড়াই করেছেন। পরবর্তী কালে তিনি মাওবাদীদের ডিভিশনাল কমিটি মেম্বার (ডিভিসি) হন। তাঁর স্ত্রী কমলাও কিশোরী অবস্থায় ২০১৪ সালে মাওবাদীদের সঙ্গে যোগ দেন। তিনি এরিয়া কমিটি মেম্বার (এসিএম)। বিজাপুরের জঙ্গলে দু’জনের প্রথম আলাপ। তার পর প্রেম, বিয়ে। দু’জনেই একসঙ্গে কাজ করা শুরু করেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement