—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
দেশের বৃহত্তম (জনসংখ্যার নিরিখে) এবং ধনীতম পুরসভা বৃহন্মুম্বই পুরনিগমে নির্বাচন চলছে। বৃহন্মুম্বই ছাড়াও বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের আরও ২৮টি পুরসভায় ভোটগ্রহণ চলছে। কিন্তু পুর নির্বাচনে কয়েকটি বুথে কালির বদলে ভোটারদের আঙুলে মার্কার পেনের দাগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এ-ও অভিযোগ যে, সহজেই সেই দাগ উঠে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছে উদ্ধব ঠাকরের দল শিবসেনা (ইউবিটি) এবং রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)।
মুম্বইয়ে ভোটগ্রহণ চলার সময় বিষয়টি নিয়ে প্রথম সরব হন এমএনএস প্রার্থী উর্মিলা তাম্বে। তিনি অভিযোগ করেন যে, মহারাষ্ট্রের কল্যাণ এলাকার কয়েকটি বুথে কালির বদলে ভোটারদের হাতে মার্কারের দাগ দিচ্ছেন নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা। তার পরেই বিষয়টি নিয়ে সুর চড়ান প্রয়াত বালাসাহেব ঠাকরের ভাইপো রাজ। তিনি বলেন, “এখন কালির বদলে মার্কার পেন ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা মানা যায় না। এই ধরনের জালিয়াতি হলে নির্বাচন করাই তো অর্থহীন! আমি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আর্জি জানাচ্ছি।” রাজের সুরেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন উদ্ধবের দলের নেতা সাইনাথ দুর্গেও। তাঁর দাবি, মার্কার পেনের দাগ সহজেই মুছে ফেলা যাচ্ছে।
বিতর্ক শুরু হতেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের কমিশনার ভূষণ গররানি। তিনি বলেন, “আঙুলের দাগ উঠে যাচ্ছে, এমন দাবির সঙ্গে আমি একমত নই। সংবাদমাধ্যম বিষয়টি ভুল ভাবে উপস্থাপন করছে।” মুম্বইয়ের পুর প্রশাসন সূত্রে খবর, ভোটারদের আঙুলে মার্কার পেন দিয়ে দাগ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ২০১২ সাল থেকেই স্থানীয় নির্বাচনগুলির জন্য এই নিয়ম চালু করে মহারাষ্ট্রের রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ওই সূত্রের এ-ও দাবি যে, অনেক সময়ই তর্জনীর নখের উপর থাকা কালির দাগ উঠে যায়। কিন্তু চামড়ায় থাকা দাগ সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলা অসম্ভব বলে দাবি ওই সূত্রের।
১৯৯৭ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত টানা ২৫ বছর বৃহন্মুম্বই পুরনিগম অবিভক্ত শিবসেনার দখলে ছিল। ২০২২ সালের পর এত দিন ওই পুরনিগমে নির্বাচন হয়নি। সরকার নিযুক্ত প্রশাসন পুরনিগমের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করছিল। প্রায় চার বছর পরে আগামী বৃহস্পতিবার নির্বাচন হচ্ছে ওই পুরনিগমে। বিজেপি এবং একনাথ শিন্দের শিবসেনা এই পুরনিগমের নির্বাচনে জোট বেঁধে লড়ছে। শাসকজোটে থাকলেও একক ভাবে লড়ছে অজিত পওয়ারের এনসিপি। অন্য দিকে, দীর্ঘ দিনের বিরোধ ভুলে এই পুরনিগমে জোট বেঁধে লড়ছেন দুই তুতো ভাই উদ্ধব এবং রাজ।