রোহিত শর্মা। ছবি: পিটিআই।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত ন’বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত এবং পাকিস্তান। তার মধ্যে ভারত জিতেছে আটটি ম্যাচে। এ বারের বিশ্বকাপের ম্যাচ ছাড়া প্রতিটি ম্যাচেই খেলেছেন রোহিত শর্মা। তার মধ্যে সেরা ম্যাচ বেছে নিলেন তিনি। পাশাপাশি, চার বছর আগে এই ম্যাচেই খেলা বিরাট কোহলির একটি ইনিংসের কথাও ভুলতে পারছেন না তিনি।
২০০৭ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ টাই হয়েছিল। সেই ম্যাচে বোল-আউটে জিতেছিল ভারত। পরে এই বোল-আউট নিয়ম তুলে দেয় আইসিসি। ফাইনালে ভারত জিতেছিল ৫ রানে।
সেই স্মৃতিচারণ করে রোহিত বলেছেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেই ফাইনালটাই (২০০৭) আমার কাছে সেরা ম্যাচ। ওটার ধারেকাছে কেউ আসবে না। কারণ ওই ম্যাচ জিতেই আমরা বিশ্বকাপ জিতেছিলাম। সে বছরই লিগেও একটা ম্যাচ হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় সেটাই ছিল একমাত্র ম্যাচ যেখানে বোল-আউট হয়েছিল। সেই ম্যাচেও আমরা জিতেছিলাম। তাই ২০০৭-এ দুটো ম্যাচই আমার কাছে খুব বিশেষ অনুভূতির।”
দু’দলের আরও একটি বিশেষ ম্যাচ হয়েছে ২০২২ বিশ্বকাপ। সে বার কোহলির ইনিংসের সৌজন্যে হারতে হারতেও জিতেছিল ভারত। রোহিত বলেছেন, “আমি সাজঘরে ছিলাম। এক বার বাইরে বেরিয়ে আসতেই প্রচণ্ড চিন্তা শুরু হয়েছিল। আবার ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলাম। হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের সময় যখন আপনি মাঠের বাইরে থাকেন এবং জানেন কিছু করতে পারবেন না, তখন নিজের উপর কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। আমারও সে রকম অসহায় লাগছিল। এ ধরনের ম্যাচ চোখের সামনে দেখলে সত্যিই খুব অসহায় লাগে, বিশেষ করে যখন কিছু করতে পারেন না।”
সেই ম্যাচে ১৬০ তাড়া করতে নেমে ৩১ রানে ৪ উইকেট পড়ে গিয়েছিল ভারতের। রোহিত দ্রুত আউট হয়ে গিয়েছিলেন। কোহলির অপরাজিত ৮২ রানের সৌজন্যে জেতে ভারত। সেই ইনিংসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রোহিত। বলেছেন, “কোহলি দুর্দান্ত একটা ইনিংস খেলেছিল। সেই ম্যাচ দেখতে খুব, খুব ভাল লেগেছিল। কারণ শুরুটা যে ভাবে হয়েছি তাতে আমরা জেতার ধারেকাছেও ছিলাম না।”
রোহিতের সংযোজন, “শেষটা অসাধারণ হয়েছিল। নিঃসন্দেহে আমাদের খেলা অন্যতম সেরা ক্রিকেট ম্যাচ। পরিস্থিতিটা ভাবুন এক বার। একে বিশ্বকাপের ম্যাচ। তার উপর আমাদের জিততেই হত। ওই পরিস্থিতি থেকে কেউ জেতার কথা ভাবতেই পারেনি।”
রোহিত জানিয়েছেন, দেশের হয়ে খেলা প্রতিটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই তিনি চিন্তার মধ্যে থেকেছেন। কখনও শান্ত থাকতে পারেননি। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের কথায়, “আমি ভারতের হয়ে ১৬০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। এমন একটা ম্যাচের কথাও মনে পড়ছে না যখন আমি চিন্তায় ছিলাম। প্রত্যেকটা ম্যাচে চিন্তা হত। ম্যাচ খেলার অনুভূতিটাই চিন্তার জন্য যথেষ্ট। আমার মনে হয় যত বার ব্যাট হাতে মাঠে নামব, তত বার এই অনুভূতি থাকবে।”