বিরাট কোহলি (বাঁ দিকে) এবং রোহিত শর্মা। — ফাইল চিত্র।
রবিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে সাতে নেমে চার বলে আট রান করেছিলেন শিবম দুবে। মেরেছিলেন দু’টি চার। ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীরের কাছে শিবমের আট রান এবং সঞ্জু স্যামসনের ৯৭ রানের মধ্যে কোনও ফারাক নেই। তাঁর মতে, দু’জনেই দলের জন্য অবদান রেখেছেন। দুই ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সকে একই জায়গায় রেখে আবার ভারতীয় দলের তারকা সংস্কৃতিকে তোপ দেগেছেন গম্ভীর।
অতীতে ভারতীয় দলে রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির পারফরম্যান্স নিয়ে বেশি হইচই হত। এই দু’জনের কেউ ভাল খেললে তাঁদের ছায়ায় ঢাকা পড়ে যেতেন বাকিরা। গম্ভীর কোচ হয়ে আসার পর এই তারকা সংস্কৃতি বন্ধ করতে চেয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এ কারণেই টেস্ট থেকে সরে যেতে হয়েছে রোহিত এবং কোহলিকে। সেই তারকাপুজো নিয়ে আরও এক বার মুখ খুলেছেন ভারতের কোচ। জানিয়েছেন, তাঁর দলে এ সব বরদাস্ত করা হবে না।
রবিবার ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে গম্ভীর বলেন, “আপনারা সকলের অবদানের কথা তুললেন বলে আপ্লুত। গত কয়েক বছর ধরে আমরা শুধু কয়েক জনের অবদান নিয়েই কথা বলে এসেছি। বুঝতে হবে এটা দলগত খেলা। বরাবর দলগত খেলাই থাকবে। আমার মনে হয় সঞ্জুর ওই ৯০ রানের সমান হল শিবমের দুটো চার। কারণ শিবম ওই সময় দুটো চার মারতে না পারলে আপনারা হয়তো সঞ্জুর ৯৭ রান নিয়ে কথাই বলতেন না। তাই শুধু ৯৭ নিয়েই কথা বললে হবে না। আমি মানছি সঞ্জু একটা ভাল ইনিংস খেলেছে। কিন্তু যে ছোট ছোট অবদানগুলো ম্যাচ জেতায় সেগুলো নিয়েও ভাবতে হবে।”
কেন ছোট অবদান নিয়ে ভাবতে চান তিনি? গম্ভীর বলেছেন, “বড় অবদান সব সময় শিরোনামে আসে। কিন্তু ছোট অবদানগুলোই শেষ পর্যন্ত দলকে ম্যাচ জেতায়। শেষ ধাপটা পেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যত দিন আমি এই পদে আছি, তত দিন এই দর্শনেই দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বলব।”
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বেশির ভাগ কোচই হয়তো সাফল্যের নেপথ্যে তথ্য-পরিসংখ্যানের উল্লেখ করবেন। গম্ভীর তাঁদের থেকে আলাদা। তিনি বলেছেন, “আমি তথ্যে বিশ্বাস করি না। কখনও পরিসংখ্যান দেখিনি। জানিই না ও সব নিয়ে কী কাজ হয়। আমি ও সবে বিশ্বাস করি না। আমার মতে, ভেতরের তাগিদই আসল ব্যাপার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সহজাত খেলাটাই আসল ব্যাপার। নিজের দক্ষতায় বিশ্বাস রাখতে হবে। টি-টোয়েন্টি সম্পর্কে আমার যে জ্ঞান রয়েছে সেটা অধিনায়ককে দেওয়ার চেষ্টা করি। যতটা সম্ভব সাহায্য করতে চাই।”
সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে বিশ্বমানের দল বলে অভিহিত করেছেন গম্ভীর। তিনি বলেছেন, “ওদের দলে দারুণ সব ক্রিকেটার রয়েছে। ওয়াংখেড়ে যে কঠিন মাঠ সেটাও আমরা জানি। আশা করি সমর্থকদের খুশি করার জন্য যেটা দরকার সেটাই করতে পারব। নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।”