হাবিবুল বাশার। ছবি: এক্স।
বাংলাদেশের নতুন প্রধান জাতীয় নির্বাচক হিসাবে শোনা যাচ্ছে হাবিবুল বাশারের নাম। গাজ়ি আশরাফ হোসেনের মেয়াদ শেষের পর তাঁর দায়িত্ব নেওয়া সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক নিজেই এখনও সিদ্ধান্ত নেননি। বলা যায়, বিসিবির নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অসন্তুষ্ট বাশার।
প্রথম বার বিজ্ঞাপন দিয়ে জাতীয় নির্বাচক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জাতীয় নির্বাচক হওয়ার জন্য কী কী যোগ্যতা থাকা দরকার, তা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। দু’বছরের কার্যকাল শেষ হওয়ার পর প্রধান নির্বাচক হিসাবে আর কাজ করতে চাইছেন না হোসেন। তাই প্রধান জাতীয় নির্বাচক হিসাবে নতুন কাউকে খুঁজছেন বিসিবি কর্তারা। জাতীয় নির্বাচক হিসাবে আসবেন নতুন দু’জন। আগ্রহীদের আগামী ৮ মার্চের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে। বাশার এখনও আবেদন করেননি। আবেদন করা নিয়ে সিদ্ধান্তও নেননি।
একটি ক্রিকেট ওয়েব সাইটকে বাশার বলেছেন, ‘‘আবেদন করার ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। জীবনপঞ্জি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিইনি। দীর্ঘ দিন বিসিবির সঙ্গে কাজ করছি। নির্বাচকের দায়িত্বও আগে পালন করেছি। আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। কাজটা জানি। তা হলে আমাকে কেন আবেদন করতে হবে?’’ বিসিবির নতুন সিদ্ধান্তে বাশার কিছুটা বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ। হয়তো কিছুটা অসম্মানিত বোধ করছেন।
বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন এ নিয়ে বলেছেন, ‘‘জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়কের যোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। তাঁকে হয়তো আমরা বেশি গুরুত্বই দেব। কিন্তু আরও অনেকে আগ্রহী থাকতে পারেন। তাঁরাও যোগ্য হতে পারেন। সকলকে সুযোগ দেওয়া উচিত।’’
বিসিবির সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের ভাবনায় কয়েক জনের নাম রয়েছে। আমাদের জানার বাইরে এমন কেউ থাকতেই পারেন, যাঁর যোগ্যতা রয়েছে। সেটাও আমাদের জানা দরকার। নির্বাচক নিয়োগের পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা রাখতে আগ্রহীদের আবেদন করতে বলা হয়েছে। আমরা প্রত্যেকের আবেদন খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেব। সবচেয়ে বেশি যোগ্য প্রার্থীকেই নিয়োগ করতে চাই আমরা। সংশ্লিষ্ট সকলকে যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া উচিত। তা ছাড়া আমাদের বেশ কয়েক জন নির্বাচক প্রয়োজন। শুধু ছেলেদের জাতীয় দলের জন্য নয়। বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দল, মহিলাদের দলের জন্যও নির্বাচক দরকার। আমরা অঞ্চলভিত্তিক নির্বাচকের কথাও ভাবছি।’’
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচক ছিলেন বাশার। টানা আট বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কার্যকালের প্রথম দিকে প্রধান নির্বাচক ছিলেন ফারুখ আহমেদ। পরে প্রধান নির্বাচক হন মিনহাজুল আবেদিন। তবে প্রধান নির্বাচক হিসাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়কের। নতুন করে তাঁকে নির্বাচক হতে হলে বিসিবির কাছে জীবনপঞ্জি পাঠাতে হবে। তা নিয়েই আপত্তি বাশারের। উল্লেখ্য, এখন বিসিবির ক্রিকেট উন্নয়ন বিভাগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি।