দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ছবি: সংগৃহীত।
হোটেল না মৃত্যুফাঁদ? দিল্লির মালব্যনগরের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ঘিঞ্জি গলি। তার মধ্যে পাঁচতলা হোটেল। সেই হোটেলে রয়েছে ২৫টি ঘর। সূত্রের খবর, দিল্লি সরকারের বেড অ্যান্ড ব্রেকফ্রাস্ট (বি অ্যান্ড বি) প্রকল্পের আওতায় ওই হোটেলকে ছ’টি ঘর বানানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, বেআইনি ভাবে সেই হোটেল আরও বাড়ানো হয়। ২৫টি ঘর বানিয়ে রীতিমতো রমরমিয়ে চলছিল হোটেল ব্যবসা। হোটেলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটতেই একের পর এক খামতি প্রকাশ্যে চলে এল।
পুলিশ সূত্রে খবর, মালব্যনগরের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার সকালে ভয়াবহ আগুন লাগে ওই হোটেলে। হোটেলে ৪০ জন ছিলেন। যাঁদের বেশির ভাগই বিদেশি। তদন্তকারী সূত্রের খবর, হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক ছিল না। বি অ্যান্ড বি প্রকল্পের আওতায় অনুমোদিত হোটেলগুলিতে ছ’টির বেশি ঘর বানানোর অনুমতি দেওয়া হয় না। সেই নিয়মের আওতায় থাকা মালব্যনগরের এই হোটেলে কী ভাবে ছয় থেকে বাড়িয়ে ২৫টি ঘর বানিয়ে ফেলা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, হোটেলে ঢোকার রাস্তা সঙ্কীর্ণ। এলাকাও ঘিঞ্জি। তার মধ্যে হোটেল ঢোকা এবং বেরোনোর রাস্তা একটাই। তা ছাড়া হোটেলে রান্নার বিষয়ে সরকারি যে যে নিয়ম অনুসরণ করার কথা ছিল, অভিযোগ, সেই নিয়মের কোনওটিই মানা হয়নি। হোটেলের একতলায় আগুন লাগে। আর ওই একতলাতেই রান্নাঘর রয়েছে। ফলে সন্দেহ করা হচ্ছে, আগুন লেগেছে রান্নাঘর থেকেই। জানা গিয়েছে, আগুন লাগার পর হোটেলে বেসমেন্টে আটকে পড়েছিলেন অনেকে। হোটেল থেকে বার হওয়ার যে মূল পথ সেখানে তালা লাগানো ছিল। ফলে অনেকে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেও সেখানে আটকে পড়েন। যার জেরে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন। মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।