TMC MLAs in Assembly

মমতার হাতছাড়া হচ্ছে তৃণমূল? ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বিধানসভায় বিদ্রোহী ও বহিষ্কৃত ঋতব্রত, সঙ্গী অন্যেরাও

৫৯ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বিধানসভায় এসেছেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একে একে হাজির হচ্ছেন দলের অন্য বিধায়কেরাও। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অরূপ রায়, শিউলি সাহা এবং আখরুজ্জামান।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ১০:৪৫
Share:

তৃণমূল কার দখলে, বিধানসভায় হাজির দলের বিধায়কেরা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তৃণমূল কি ভেঙে ‘চুরমার’ হচ্ছে? এই প্রশ্ন জোরালো হওয়ার মধ্যেই বুধবার ৫৯ জন তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বিধানসভায় হাজির হলেন দলের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অনেয বিধায়কেরাও এক এক করে বিধানসভায় হাজির হচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, অরূপ রায়, শিউলি সাহা এবং আখরুজ্জামান। এ ছাড়াও বিধানসভায় পৌঁছেছেন বিধায়ক সন্দীপন সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, চন্দ্রনাথ সিংহ, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের অনেক বিধায়ক। সাবিনা বলেন, আজকে আমরা বিরোধী দলনেতা সিলেক্ট করার জন্য মিটিং করব। কে ডেকেছে মিটিং? তাঁর জবাব, ‘‘আমরা সবাই।’’

Advertisement

তৃণূল কার দখলে যাবে, এ নিয়ে শুধু হয়েছে টানাপড়েন। বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে অবিলম্বে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে চিঠি পাঠান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার কলকাতায় নেই বলে সেই চিঠি অবশ্য বিধানসভায় গ্রহণ করা হয়নি। পাশাপাশি, বিদ্রোহী শিবির দাবি করে, তারা ৫২ থেকে ৫৫ জন বিধায়কের তালিকা সংবলিত চিঠি স্পিকারের কাছে দিয়ে প্রকৃত বিরোধী দলের মর্যাদা দাবি করবে! আর সেই দাবিমতোই বুধবার সকালে হাজির হয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। এখন দেখার, দলের রাশ কি তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে থাকবে, না কি বিদ্রোহী শিবিরের হাতে যাবে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিন ধরেই সইকাণ্ড নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছিল তৃণমূলের অন্দরে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে কারও নামে সিলমোহর দেননি স্পিকার রথীন্দ্র বসু। তার কিছু ক্ষণ পর বিধানসভায় পৌঁছে যদিও ঋতব্রত দাবি করেন, সবই ‘জল্পনা’। সইকাণ্ড নিয়ে চাপানউতরের মধ্যে জল্পনা জোরালো হতে থাকে তৃণমূল কি ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে? যদিও ঋতব্রত বিজেপি বিধায়কের এই পোস্টের বিষয়বস্তু অস্বীকার করেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘‘বিধানসভায় কাজে এসেছি। সবই জল্পনা।’’ তিনি এ-ও দাবি করেন, এর আগে যে বিধানসভায় গিয়েছিলেন, তা নেহাতই আড্ডা দিতে। ৫০ জন বিধায়ক কি তাঁর পাশে রয়েছেন? সেই প্রশ্নের জবাবে ঋতব্রত বলেন, ‘‘আমি আমার এবং সন্দীপন ছাড়া কারও দায়িত্ব নিতে পারব না।’’

Advertisement

সোমবারই ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। নবাগত দুই বিধায়কের দাবি, গত ৬ মে-র বৈঠকে বিরোধী দলনেতা বাছার কোনও রেজ়োলিউশন (প্রস্তাব) হয়নি। স্রেফ একটি উপস্থিতির খাতায় করানো সইকে জালিয়াতি করে সেটা রেজ়োলিউশনে বদলে দিয়েছেন নেতৃত্ব। আর সেই সইকাণ্ড নিয়েই হুলস্থুল পড়ে যায় দলের মধ্যে।

উল্লেখ্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, এ নিয়ে পরিষদীয় নিয়মের জটিলতায় পড়তে হয়েছে প্রাক্তন শাসকদলকে। ৪ মে ভোটের ফলঘোষণার পরে ৬ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে জয়ী বিধায়কদের বৈঠকে ডেকেছিলেন। সে দিনই দলের প্রস্তাবে বিধায়কেরা হাত তুলে সায় দেন, পরিষদীয় দলের নেতা, উপ দলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, তা ঠিক করুন দলনেত্রী মমতা। তার পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার কথা জানানো হয় তৃণমূলের তরফে। সেই মর্মে দলের তরফে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয় বিধানসভায়। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি। তার কারণ, পরিষদীয়দলের নেতা বা অন্য পদাধিকারীর নির্বাচন পরিষদীয়দলের বৈঠকেই করতে হয়। তৃণমূলের ক্ষেত্রে তা হয়নি।

৬ মে বৈঠক থেকে বেরিয়ে একাধিক বিধায়ক সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, পরিষদীয় দলের নেতা বা অন্যান্য পদাধিকারী কে হবেন, তা ঠিক করার ভার দেওয়া হয়েছে মমতাকে। বিধানসভা অভিষেকের চিঠি প্রত্যাখ্যান করলে ১৯ মে কালীঘাটে ফের যে বৈঠক হয়, সেখানে পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করানো হয় বিধায়কদের। একাধিক বিধায়ক জানিয়েছিলেন, সেই সই তাঁদের করানো হয়েছিল ৬ মে তারিখের কার্যবিবরণীতে। এখানেই মূল জটিলতা তৈরি হয় বলে সূত্রের খবর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement