(বাঁ দিকে) তাপস রায়। (মাঝে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
তৃণমূল ভেঙে ‘চুরমার’ হয়ে গিয়েছে। বিধানসভায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ককে নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যম পোস্ট দিলেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। বিধানসভায় পৌঁছে যদিও ঋতব্রত দাবি করলেন, সবই ‘জল্পনা’। নিজের এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা ছাড়া তিনি কারও দায়িত্ব নেবেন না। তার পরেই আবার তৃণমূলের দিকে আঙুল তোলেন ঋতব্রত। দুর্নীতি নিয়ে কটাক্ষ করেন। তার পরে এ-ও জানিয়ে দেন, তৃণমূল তাঁকে বহিষ্কার করলেও নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি যে সম্মান ছিল, তা-ই থাকবে।
মঙ্গলবার ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিজেপি বিধায়ক তাপস লেখেন, ‘‘তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতো অবস্থা হল তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকারের কাছে প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন ঋতব্রত। খেলা হবে।’’
যদিও ঋতব্রত বিজেপি বিধায়কের এই পোস্টের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বিধানসভায় প্রবেশের সময় বলেন, ‘‘বিধানসভায় কাজে এসেছি। সবই জল্পনা।’’ তিনি এ-ও দাবি করেন, এর আগে যে বিধানসভায় গিয়েছিলেন, তা নেহাতই আড্ডা দিতে। ৫০ জন বিধায়ককে কি তাঁর পাশে রয়েছে? সেই প্রশ্নের জবাবে ঋতব্রত বলেন, ‘‘আমি আমার এবং সন্দীপন ছাড়া কারও দায়িত্ব নিতে পারব না।’’ ঋতব্রত বিধানসভায় পৌঁছোনোর পরেই সেখানে যান তাপসও। বিজেপির একটি সূত্র বলছে, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রতের সঙ্গে কথা হতে পারে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা তাপসের।
সোমবারই ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। নবাগত দুই বিধায়কের দাবি, গত ৬ মে-র বৈঠকে বিরোধী দলনেতা বাছার কোনও রেজলিউশন (প্রস্তাব) হয়নি। স্রেফ একটি উপস্থিতির খাতায় করানো সইকে জালিয়াতি করে সেটা রেজলিউশনে বদলে দিয়েছেন নেতৃত্ব। বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে সোমবার দুপুরে নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তখন তিনি জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপনই লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন স্পিকারের কাছে। এখানে বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। তৃণমূলের দুই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। আর পুলিশমন্ত্রী হিসাবে বিষয়টি তাঁর কানে যাওয়ার পর সিআইডি-কে তদন্তে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। শুভেন্দুর এই ঘোষণার পরেই জানা যায়, দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল।
মঙ্গলবার বিধানসভায় প্রবেশের সময় ঋতব্রত স্পষ্ট জানান, দল বহিষ্কার করলেও মমতার প্রতি তাঁর সম্মান একই রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘মমতা সকলের নেত্রী। পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হতে পারি। মমতার প্রতি যে সম্মান ছিল, তাই থাকবে। তিনিই আমার নেত্রী।’’ এর পরেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তোলেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, ‘‘মমতা যে পার্টি করেছিলেন, ঘটনাচক্রে কর্পোরেট রীতিতে চলতে গিয়ে সেই তৃণমূল বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে। (ভোটের ফল ঘোষণার) ২৬ দিন পরে বেরিয়ে যে গণপিটুনি বা চোরপিটুনি অভিষেক খেলেন, গতকাল থেকে আমি গদ্দার, বেইমান শুনছি, কিন্তু চোর চোর শুনছি না।’’
(এই খবরটি ক্রমাগত আপডেট হচ্ছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে পাতাটি রিফ্রেশ করতে থাকুন।)