বদল চান বিজেপি নেতৃত্ব, বাদ সাধছেন শিব-রাজে

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লিতে ঘন ঘন আসছেন শিবরাজ। রাজ্যের নানা বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করছেন। আসলে সংগঠনে বদলের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে আনার দরবার করছেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৮ ০৩:১৫
Share:

নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ।

কর্নাটকের ভাবনায় হিমশিম! আবার বছর শেষে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়ের ভোট নিয়েও চিন্তায় নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ।

Advertisement

বিজেপি সূত্রের মতে, ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে একের পর এক উপনির্বাচনে হেরেছে বিজেপি। ফল খতিয়ে দেখা গিয়েছে, বিজেপির বিরুদ্ধে তো বটেই, মুখ্যমন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও তৈরি হয়েছে জনমত। অথচ আগেই ঘোষণা হয়েছে, এই মুখ নিয়েই ভোটে যাবে দল। এ ছাড়া, ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী বদলেরও ঝক্কি অনেক। বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া কিংবা শিবরাজ সিংহ চৌহানেরা তা মানবেন না। বিপাকে পড়ে এখন ভোটমুখী রাজ্যের সংগঠনে বড় বদল করতে চাইছেন মোদী-শাহ। কিন্তু তাতেও আপত্তি মুখ্যমন্ত্রীদের।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লিতে ঘন ঘন আসছেন শিবরাজ। রাজ্যের নানা বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করছেন। আসলে সংগঠনে বদলের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে আনার দরবার করছেন। দলের অনেকে কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে মধ্যপ্রদেশে পাঠাতে আগ্রহী। কিন্তু শিবরাজ চান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নরেন্দ্র সিংহ তোমরকে। আরএসএসের একাংশও বলছে, এখনই মুখ বদল না করলে রাজ্য হাতছাড়াও হতে পারে। গুজরাতে যেমন আনন্দীবেনকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরানোর পরও ভোটে জিততে বিজেপিকে কম কাঠখড় পোহাতে হয়নি। সংগঠনে বদল নিয়ে অমিত আজ বৈঠক করেন বসুন্ধরার সঙ্গে।

Advertisement

আজই এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, রাজস্থানে ৬০ শতাংশের বেশি, মধ্যপ্রদেশে প্রায় ৫৫ শতাংশ, ছত্তীসগঢ়ে ৫৯ শতাংশ নাগরিক চান, সরকার বদল হওয়া উচিত। আর তিনটি রাজ্যেই অধিকাংশ নাগরিক চান, রাজ্যে ফের সরকার গড়ুক কংগ্রেস। দিল্লিতে কংগ্রেস নেতারাও বলছেন, ‘‘কর্নাটকে কংগ্রেস তো রাজ্য ধরে রাখবেই। এমনকী, বছর শেষে তিন রাজ্যও বিজেপির থেকে ছিনিয়ে নেবে দল। গুজরাত অল্পের জন্য হাতছাড়া হয়েছে। বাকিগুলি আর হবে না।’’

বিজেপির মতে, ছত্তীসগঢ়ে সঙ্ঘের সমর্থনে ঘর গুছিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু আশঙ্কা মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানে। রাহুল গাঁধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস যেভাবে আক্রমণাত্মক হচ্ছে, তাতে লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর কর্নাটকের পর যদি রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যও কংগ্রেস জিতে যায়, তাহলে রাহুলের শক্তি বাড়বে। বাকি বিরোধী দলগুলিও তাঁর নেতৃত্বে একজোট হবে লোকসভা নির্বাচনে। ফলে সেই প্রচেষ্টা ঠেকাতেই বিজেপির পক্ষে রাজ্যগুলিতে জয় জরুরি। প্রশ্ন হল, বিধায়কদের না হয় বদল করে নেওয়া যাবে, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীদের?

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement