Stray Dog

২০০ পথকুকুর খুন! নির্বাচনী ‘প্রতিশ্রুতি’ পূরণ করতে নির্বিচারে নিধন তেলঙ্গানার পঞ্চায়েতে, অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান

পুলিশ জানিয়েছে, পঞ্চায়েত প্রধান-সহ মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, নির্বাচনের আগে পথকুকুরদের আতঙ্ক দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রার্থীরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২০
Share:

— প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

তেলঙ্গানায় আবার পথকুকুরদের খুন করার অভিযোগ উঠল। ২০০টি পথকুকুর হত্যার ঘটনাটি কামারেড্ডি জেলার। পুলিশ জানিয়েছে, এই নিয়ে গত এক সপ্তাহে তেলঙ্গানায় ৫০০টি পথকুকুর খুন করা হয়েছে। কেন একসঙ্গে এত পথকুকুরকে হত্যা করা হল? কামারেড্ডি জেলার বাসিন্দাদের দাবি, পঞ্চায়েত নির্বাচনের দেওয়া ‘প্রতিশ্রুতি’ পূরণ করতেই কিছু নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্দেশে এমন কাণ্ড ঘটছে। তাঁদের মধ্যে পঞ্চায়েত প্রধানও রয়েছেন। দাবি, নির্বাচনের আগে পথকুকুরদের আতঙ্ক দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রার্থীরা। ভোটে জেতার পর সেই প্রতিশ্রুতি পালন করতেই গ্রামে গ্রামে পথকুকুর হত্যা চলছে!

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পঞ্চায়েত প্রধান-সহ মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গ্রামবাসীদের একাংশের কথায়, ‘‘গত বছর ডিসেম্বরে গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়। সেই সময় কিছু প্রার্থী ভোট চাইতে এসে গ্রামবাসীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাঁরা জিতলে পথকুকুর এবং বাঁদরের আতঙ্ক মোকাবিলা করবেন। খুঁজে বার করবেন সমাধান। কিন্তু ভোটে জেতার পর কুকুরদের মেরে তাঁরা এখন সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করছেন।’’

পুলিশ জানিয়েছে, পথকুকুরদের মেরে গ্রামের অদূরে একটি নির্জন স্থানে মাটি চাপা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পশুচিকিৎসকদের দল সেই ‘কবর’ খুঁড়ে কুকুরদের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করছে। কী ভাবে কুকুরগুলিকে মারা হচ্ছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই তা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্তা সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, প্রাথমিক ধারণা কুকুরগুলিকে বিষ খাইয়ে মারা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং কী ধরনের বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে তা জানতে ভিসেরা নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

পথকুকুরদের নিয়ে মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। দেশ জুড়ে পথকুকুরের আক্রমণের ঘটনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত বলেছিল, ‘‘কোন মানুষ ভয় পাচ্ছেন তা সহজেই টের পায় কুকুর। তাই কুকুর দেখে কেউ ভয় পেলে তাকেই কামড়ায় তারা।’’ বৃহস্পতিবারও এই মামলা শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আনজারিয়ার বেঞ্চ জানিয়েছে, কুকুর কাউকে কামড়ালে কিংবা কামড়ের জেরে কোনও শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু হলে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। এই দায়িত্ব রাজ্যের কাঁধেই পড়বে। পথকুকুরদের নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যকেই, এমনও কথা জানায় শীর্ষ আদালত। তার মধ্যেই তেলঙ্গানায় পথকুকুর হত্যার বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ল।

গত সোমবার পশুকল্যাণ কর্মী আদুলপুরম গৌতম মাচারেড্ডি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের পরই পথকুকুর হত্যার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গৌতমের অভিযোগ, গত দু’-তিন দিনে কামারেড্ডি জেলার অন্তত পাঁচটি গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড চলেছে। কুকুরদের খুন করতে ‘ভাড়াটে খুনির’ বন্দোবস্ত করেছিলেন পঞ্চায়েত সদস্যেরা!

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement