পাঁচ বছরের সন্তানকে খুনে অভিযুক্ত মা জ্যোতি রাঠৌর (বাঁ দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।
পুত্রকে খুনের অপরাধে তিন বছর পর দোষী সাব্যস্ত হলেন মা। যাবজ্জীবন কারাবাসের নির্দেশ দিল আদালত। অভিযোগ, পরকীয়া দেখে ফেলায় পাঁচ বছরের ছোট্ট সন্তানকে ছাদ থেকে ঠেলে ফেলে দিয়েছিলেন ওই মহিলা। প্রথমে বিষয়টিকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরে নিজেই ভেঙে পড়েন। স্বামীর কাছে অপরাধের কথা স্বীকার করে নেন।
মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়রের ওই মহিলার নাম জ্যোতি রাঠৌর। তিনি পুলিশ কনস্টেবল ধ্যানচাঁদ রাঠৌরের স্ত্রী। ২০২৩ সালের ২৮ এপ্রিল দোতলার ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর পুত্রের মৃত্যু হয়েছিল। অভিযোগ, জ্যোতি প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। স্বামী সে কথা জানতেন না। তবে পাঁচ বছরের যতীন মাকে এক দিন পাড়ার ওই কাকুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলে।
যতীন যা দেখেছে, তা বাবাকে বলে দিতে পারে বলে ভয় পেয়েছিলেন জ্যোতি। তখনই ছেলেকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন। দোতলার ছাদে নিয়ে গিয়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন একরত্তি শিশুকে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টা যমে-মানুষে টানাটানির পর শিশুর মৃত্যু হয়। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছিল, ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ওই শিশুর। কিন্তু যতীনের বাবার সন্দেহ হয়েছিল। ১৫ দিনের মাথায় অপরাধ স্বীকার করে নেন অভিযুক্ত মা।
স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন কনস্টেবল ধ্যানচাঁদ। প্রেমিককেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রমাণের অভাবে আদালত তাঁকে মুক্তি দিয়েছে। আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মামলা চলেছে। সম্প্রতি জ্যোতির শাস্তি ঘোষণা করেছে আদালত। বাকি জীবন তাঁকে জেলের ঘানি টানতে হবে।