চন্দ্রনাথ রথ। —ফাইল চিত্র।
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যার ঘটনায় ভিন্রাজ্যে হানা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে তিন অভিযুক্তকে। এঁদের মধ্যে উত্তরপ্রদেশ থেকে ধৃত এক ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ্যে আনল সংবাদ সংস্থা পিটিআই। বালিয়ার আনন্দনগর এলাকার বাসিন্দা রাজ সিংহ নামে ওই ধৃত ব্যক্তির মা দাবি করেছেন, তাঁর পুত্রকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে পুলিশ।
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথকে গুলি করে খুন করা হয়। চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে অন্য একটি চারচাকার গাড়ি চলে এসেছিল। তার ফলে চন্দ্রনাথের গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। সেই সময় দু’পাশ থেকে দু’টি বাইকে চেপে আসে দুষ্কৃতীরা। চন্দ্রনাথ এবং তাঁর গাড়ির চালককে লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই চন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর গাড়ির চালক এখনও হাসপাতালে। খুনের তদন্তে নেমে অভিযুক্তদের খোঁজে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে হানা দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। ওই অভিযানেই ধরা পড়েন তিন অভিযুক্ত। বিহারের বক্সার থেকে গ্রেফতার করা হয় ময়াঙ্করাজ মিশ্র এবং ভিকি মৌর্যকে। উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় রাজকে। ধৃতদের তিন জনকেই ট্রানজ়িট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। সোমবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
বালিয়ার রসড়া ডাকঘরের কর্মী জামবন্তী সিংহ সোমবার দাবি করেন, তাঁর ছেলে রাজকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। তাঁর দাবি, অযোধ্যা থেকে ফেরার সময় তাঁকে এবং তাঁর ছেলেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় এবং পরে জানানো হয় যে রাজকে বিমানে করে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জানবন্তীর দাবি, ৭ মে (চন্দ্রনাথ খুনের দিন) তিনি তাঁর ছেলেকে নিয়ে লখনউ গিয়েছিলেন বিধান পরিষদ সদস্য রবীশঙ্কর সিংহ ওরফে পাপ্পু সিংয়ের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। তিনি বলেন, “আমি, আমার ছেলে রাজ, তার বন্ধু মনু সিংহ, এক জন চালক এবং এক জন ফটোগ্রাফার-সহ মোট পাঁচজন একটি গাড়িতে করে লখনউ গিয়েছিলাম। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ৮ মে অম্বেডকর নগর জেলার একটি দরগায় গিয়েছিলাম এবং মাজারের কাছে একটি হোটেলে রাত কাটিয়েছিলাম।’’
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ধৃতের মায়ের মন্তব্য “৯ মে সকালে মাজারে প্রার্থনা করার পর আমরা অযোধ্যার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলাম। কিছু ক্ষণ পরে রাস্তার ধারের একটি খাবারের দোকানে খেতে থেমেছিলাম। আমরা গাড়িতে উঠেই রওনা হওয়ার সময় পুলিশ আমাদের আটক করে এবং আমাকে ও আমার ছেলেকে নিয়ে যায়।” জামবন্তীর দাবি, পাঁচ জনকেই একটি থানায় রাখা হয়েছিল, যেখানে তাঁকে মহিলা ব্যারাকে বাকিদের থেকে আলাদা রাখা হয়। তিনি বলেন, “১০ মে দুপুরে পুলিশ আমাকে রাজের সঙ্গে দেখা করতে দেয় এবং জানায় যে তাকে বিমানে করে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”
৬ মে বলিয়ায় রাজের উপস্থিতি প্রমাণ করার জন্য তাঁর কাছে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, “৬ মে রাজ বলিয়াতেই ছিল। সে এখানে বাজার করতে গিয়েছিল এবং আমাদের বাড়ি, দোকান ও একটি জিমের সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। কলকাতায় আমাদের কোনও আত্মীয় নেই এবং রাজ কখনও সেখানে যায়নি, এমনকি ঘুরতেও নয়।” তিনি আরও জানান, রাজ আগে ক্ষত্রিয় মহাসভার জেলা সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে পুরো ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন জামবন্তী।
এ দিকে, জেলা অপরাধ নথি ব্যুরো (ডিসিআরবি)-র দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বিপিন সিংহ জানান, বলিয়ায় একটি খুনের মামলায় রাজকে আগেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে বালিয়া কোতওয়ালি এলাকার আনন্দনগরে অজিত নামে এক প্রতিবন্ধী ডিম ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই মামলায় পুলিশ রাজ সিংহ এবং তার সহযোগী গোবিন্দ সিংহকে গ্রেফতার করেছিল। তাদের কাছ থেকে বেআইনি পিস্তল, একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজও উদ্ধার করা হয়েছিল।’’ বালিয়ার পুলিশ সুপার ওমবীর সিংহ জানান, রাজের গ্রেফতারি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বালিয়া পুলিশকে কোনও তথ্য জানায়নি।