Death in Mount Everest

‘শেষ শয়ান হোক মহাদেবের চরণে’! হায়দরাবাদের পর্বতারোহীর মরদেহ রয়ে যাবে এভারেস্টেই, সিদ্ধান্ত পরিবারের

তেলঙ্গানার বাসিন্দা পর্বতারোহী অরুণকুমার তিওয়ারি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট থেকে অবতরণের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। চূড়ার ঠিক নীচে হিলারি স্টেপের কাছে মারা যান তিনি। ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মৃতদেহ উদ্ধারের চরম ঝুঁকির কারণে তাঁর পরিবার মরদেহ পর্বতেই রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ১৪:৩৫
Share:

ছবি: সংগৃহীত।

গত ২১ মে মাউন্ট এভারেস্ট থেকে অবতরণের সময় মারা যান তেলঙ্গানার হায়দরাবাদের পর্বতারোহী অরুণকুমার তিওয়ারি। ৫৩ বছর বয়সি এই প্রযুক্তিবিদ বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ থেকে নামার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। চূড়ার ঠিক নীচে হিলারি স্টেপের কাছে মারা যান তিনি। নেপাল-ভিত্তিক অভিযাত্রী সংস্থা ‘পায়োনিয়ার অ্যাডভেঞ্চার্স’ জানায়, তাঁকে সহায়তা করছিলেন চার জন শেরপা। ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মৃতদেহ উদ্ধারের চরম ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তাঁর পরিবার মরদেহটি পর্বতেই রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Advertisement

অরুণের শ্যালক সুধীর উপাধ্যায় জানান, এভারেস্ট ভগবান শিবের বাসস্থান, এমনটাই তাঁদের পারিবারিক বিশ্বাস। এই কারণে অরুণের নশ্বর দেহ স্থায়ী ভাবে সেখানে শায়িত রাখলে অরুণ মহাদেবের চরণেই থাকবেন বলে মনে করেন তাঁরা। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এত উচ্চতা থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন। সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অক্সিজেনের অভাবের ফলে এই কাজটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

সুধীর সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেন, “তিনি (অরুণ) ভগবান শিবের আবাসে আছেন। মরদেহটি আনার যে প্রক্রিয়া, তা সম্পন্ন করে দেহটি আমাদের কাছে পৌঁছোনোর সময়ে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেখানে (এভারেস্টে) এই ধরনের কার্যকলাপ সফল হয় এমন খবরও জানা যায় না।”

Advertisement

পরিবারের সদস্যেরা বলেছেন, শুধুমাত্র আর্থিক কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং হিমালয়কে গভীর ভাবে ভালবাসা এক মানুষ হিসাবে অরুণের আকাঙ্ক্ষা কী হতে পারে, সেই বিশ্বাস থেকেও নেওয়া হয়েছে। স্ত্রী এবং দুই কন্যা রয়েছে তাঁর।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, অরুণ এক জন দক্ষ পর্বতারোহী ছিলেন। তিনি এর আগে মাউন্ট এলব্রাস, ডেনালি এবং অ্যাকনকাগুয়ার মতো শৃঙ্গ আরোহণ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ২০২৫ সালেও এভারেস্ট আরোহণের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু স্বাস্থ্যের কারণে প্রায় ৭,২০০ মিটার উচ্চতা থেকে ফিরে আসেন। এর পর এই বছর তার স্বপ্নের আরোহণটি আবার সম্পন্ন করতে চেষ্টা করেন। স্বপ্নপূরণ করে স্বপ্নের দেশেই থেকে গেলেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement