Rohingya Infiltration

শিবির নেই, নেই আশ্রয়,সাজা শেষেও বন্দি জেলে

২০১৬ সালে মায়ানমার থেকে এ দেশে ঢোকেন ফরিদুল। সঙ্গে তাঁর পরিবার ও অন্যান্যরাও ছিলেন। সে সময় হাওড়া স্টেশনে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন ফরিদুল।

কুন্তক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৮
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাজ্যে কোনও আশ্রয় শিবির নেই। রোহিঙ্গা নাগরিককে কেউ বাড়িতে ঠাঁই দিতেও রাজি নয়। তাই সাজা শেষের আট বছর পরেও জেলমুক্তি হচ্ছে না মায়ানমারের নাগরিক ফরিদুল ইসলামের। কোর্টের খবর, ফরিদুলের স্ত্রী ও সন্তান দিল্লিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের আশ্রয় শিবিরে আছেন। কিন্তু আইনের গেরোয় সেখানেও পাঠানো যাচ্ছে না ফরিদুলকে। সরকারি শিবির বা কোনও আশ্রয়দাতা না-থাকায় ফরিদুলের জেলমুক্তির আবেদন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও খারিজ করে দিয়েছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, কোনও আশ্রয়ের সন্ধান পেলে ফের নতুন করে আর্জি জানাতে পারবেন ফরিদুল।

সূত্রের খবর, ২০১৬ সালে মায়ানমার থেকে এ দেশে ঢোকেন ফরিদুল। সঙ্গে তাঁর পরিবার ও অন্যান্যরাও ছিলেন। সে সময় হাওড়া স্টেশনে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন ফরিদুল। ২০১৭ সালে তিনি হাওড়া কোর্টে দোষ স্বীকার করে নিলে বিচারক তাঁকে ১৫ মাসের সাজা শোনান। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে সেই সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও জেল থেকে মুক্তি মেলেনি। অথচ, নিম্ন আদালতের নির্দেশ ছিল যে সাজার মেয়াদ শেষে নিয়ম মোতাবেক ফরিদুলকে তাঁর দেশে পাঠিয়ে দিতে হবে। ২০২৪ সালে ফরিদুল হাই কোর্টে মামলা করেন। তাঁর আর্জি ছিল, দিল্লির আশ্রয় শিবিরে তাঁর পরিবার আছে। জেল থেকে মুক্ত করে তাঁকে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু সেই আর্জি মঞ্জুর হয়নি।

ফরিদুলের আইনজীবী আফরিন বেগম কোর্টে জানান যে অবৈধ ভাবে দেশে ঢোকা নাগরিকদের জেলমুক্তি সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টেরএকটি রায় আছে। তাতে দেশে ফেরত পাঠানো না গেলে সাজার মেয়াদ ফুরনোর তিন বছর পরে জামিনে মুক্তি দেওয়ার কথা বলেছে শীর্ষ আদালত। সে ক্ষেত্রে জামিনের বন্ড ছাড়াও কিছু শর্তের কথাও বলা হয়েছে। সেই সব শর্তের মধ্যে সরকারি আশ্রয় শিবির ব্যতীত এ দেশের কোনও নাগরিকের বাড়িতে আশ্রিত হিসেবেও থাকতে পারেন সংশ্লিষ্ট বিদেশি। এ রাজ্যে বিদেশিদের কোনও আশ্রয় শিবির রাজ্য তৈরি করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে কোর্ট নির্দেশ দেয় যে কোন পরিচিতের বাড়িতে আশ্রিত হিসেবে থাকবেন, তা ফরিদুলকে জানাতে হবে।

কোর্টের খবর, আমডাঙার এক বাসিন্দার কথা ফরিদুল জানিয়েছিলেন। সেই ব্যক্তি ফরিদুলকে আশ্রয় দিতে চান বলে কারা দফতরের রিপোর্টও জমা পড়ে। কিন্তু পুলিশ রিপোর্ট দিয়ে জানায় যে আমডাঙার ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক দুষ্কর্মের অভিযোগ আছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে কোর্টজানায় যে ওই ব্যক্তির বাড়িতে ফরিদুলকে রাখা যাবে না। এর পরে বসিরহাটের এক ব্যক্তি এবং জয়নগরের এক মহিলার নামও ফরিদুলের তরফে কোর্টে জমা পড়ে। সেই ব্যক্তিদের সম্পর্কে পুলিশ রিপোর্ট দিয়ে জানায় যে বসিরহাটের ওই ব্যক্তি দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। সে সময় ফরিদুলের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়েছিল। তবে তিনি ফরিদুলকে বাড়িতে আশ্রয় দিতে ইচ্ছুক নন। জয়নগরের মহিলা ফরিদুলকে চিনতেই পারেননি।

এর পরেই কোর্ট জানায় যে বিদেশি নাগরিক ফরিদুলকে শুধু জামানতের বিনিময়ে জামিনে মুক্ত করা সম্ভব নয়। তিনি যে এ দেশ থেকে পালিয়ে যাবেন না অথবা এখানে কোনও অপরাধ করবেন না, এই আশঙ্কা থেকে পুুরোপুুরি মুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। তাই মুক্তির আর্জি খারিজ করা হল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন