Mysterious Death in Delhi

দিল্লিতে অধ্যাপিকার রহস্যমৃত্যু, বন্ধ ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হল দেহ! খুনের ঘটনা কি? খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেবস্মিতা পালের (৪৯) রহস্যমৃত্যুতে খুনের অভিযোগ উঠল। তিনি পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে একা থাকতেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১১:১১
Share:

দিল্লিতে অধ্যাপিকার রহস্যমৃত্যু। তদন্তে নামল পুলিশ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেবস্মিতা পালের (৪৯) রহস্যমৃত্যুতে খুনের অভিযোগ উঠল। তিনি পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে একা থাকতেন।

Advertisement

বৃহস্পতিবার সকালের পর থেকে বার বার দেবস্মিতাকে ফোন করেও কোনও সাড়া না-পেয়ে দেবস্মিতার বোন দেবারতি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তার পরেই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। তিনি ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেখেন, বাইরে থেকে তালা দেওয়া রয়েছে। কিছু একটা অস্বাভাবিক ঘটেছে বলে সন্দেহ হওয়ায় দেবারতি তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। সেখানে ঢুকেই তিনি তাঁর দিদিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

তার পর তিনি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি পুলিশকে জানান যে, তাঁর বোনকে খুন করা হয়েছে এবং তাঁর দেহ ফ্ল্যাটের ভিতরে রয়েছে।

Advertisement

অপরাধস্থল খতিয়ে দেখা তদন্তকারী ও ফরেনসিক দল জটিল ধাঁধার মুখোমুখি হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, দেবস্মিতা ফ্ল্যাটের ভিতরে থাকা অবস্থায় বাইরে থেকে কী ভাবে ফ্ল্যাটে তালা দেওয়া হল? তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ফ্ল্যাটে জোর করে ঢোকার কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই তথ্য থেকে মনে করা হচ্ছে, হত্যাকারী দেবস্মিতার পরিচিত কেউ ছিলেন। দেবস্মিতার মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল, দুই কব্জিতেই কাটা চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে এবং মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের দাগ ছিল। যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, হামলাকারীর সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়।

ঘটনার সময়ক্রম পুনর্গঠনের জন্য ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞেরা সংগৃহীত নমুনা, ছবি এবং ভিডিয়ো ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন। অন্য দিকে, পরিবারের সদস্যেরা দেবস্মিতার জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টা সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়েছেন। তাঁদের মতে, মৃত্যুর কিছু ক্ষণ আগেও তিনি তাঁর মায়ের কাছে ওষুধ পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

দেবস্মিতা ২০২৩ সালে রাজা গার্ডেনে অবস্থিত ওই কলেজে স্থায়ী পদে যোগদান করেছিলেন। তার আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার অধীনে ‘অ্যাড-হক’ অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছিলেন।

পূর্ব দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) রাজীব কুমার জানিয়েছেন, হত্যাকারীকে শনাক্ত করা এবং এই নৃশংস হত্যার উদ্দেশ্য জানার জন্য সম্ভাব্য সব সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নাম ও পারিবারিক পরিচয় থেকে দেবস্মিতাকে বাঙালি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তাঁর আদি নিবাস বা ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে পুলিশ বা পরিবারের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement