Delhi Domestic Help Murder

বাঙালি পরিচারিকাকে নয়, স্ত্রী ও পুত্রকে হত্যার পরিকল্পনা করেন দিল্লির চিকিৎসক? কেন খুন হতে হল মীনাকে, কী তথ্য উঠে এল

বৃহস্পতিবার সকালে পরিচারিকা মীনাকে খুনের অভিযোগ উঠেছে দিল্লির মাউন্ট কৈলাস এলাকার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মণীশের বিরুদ্ধে। কেন খুন, তার উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১০:৫১
Share:

(বাঁ দিকে) পরিচারিকা মীনা হালদার। (ডান দিকে) অভিযুক্ত চিকিৎসক। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বাঙালি পরিচারিকা মীনা হালদারকে নয়, স্ত্রী, পুত্রকে খুনের পরিকল্পনা ছিল দিল্লির চিকিৎসক মণীশ গুপ্তের? অভিযুক্তকে জেরা করে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে বলে তদন্তকারী সূত্রের খবর। তা হলে মীনাকে কেন খুন হতে হল? এই প্রশ্নের উত্তর যখন খুঁজছে পুলিশ, তখন প্রকাশ্যে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

Advertisement

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মানসিক অবসাদ কাটাতে চিকিৎসক দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধ খাচ্ছেন। তদন্তকারী সূত্রের খবর, শুক্রবার অভিযুক্ত চিকিৎসক দাবি করেন, তাঁর মনের মধ্যে নানা রকম হিংসাত্মক চিন্তাভাবনা ঘোরাফেরা করছিল। মানসিক ভাবে প্রচণ্ড বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। প্রতিশোধমূলক চিন্তাভাবনা তাঁকে ক্রমাগত গ্রাস করছিল। চিকিৎসকের দাবি, তিনি ঠিক করে উঠতে পারছিলেন না, কার বিরুদ্ধে এই প্রতিশোধ নেওয়া যায়। পুলিশের অনুমান, তাই প্রথমে স্থির করেন স্ত্রী এবং পুত্রকে খুন করে আত্মঘাতী হবেন।

তদন্তকারী সূত্রের খবর, চিকিৎসকের এ রকম আজব দাবি শুনে তদন্তকারীরাও স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন। তাঁকে জেরা করার সময় তদন্তকারীরা যে আচরণ লক্ষ করেন, তাতে তাঁদের সন্দেহ, চিকিৎসকের মানসিক অবস্থা ক্রমশ তলানিতে ঠেকেছিল। তাঁর মধ্যে হিংসাত্মক ভাব ক্রমশ বাড়ছিল। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই পরিচারিকাকে নিয়ে অশান্তি হত বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। তা হলে সেই হিংসাত্মক মানসিকতার কারণেই কি পরিচারিকা খুন হলেন?

Advertisement

তদন্তকারী সূত্রের খবর, চিকিৎসক সন্দেহ করতেন যে, পরিবারে তাঁর গুরুত্ব ক্রমশ কমে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত সম্মানটুকুও পাচ্ছেন না। এই সন্দেহের বশে তাঁর মনে হিংসার ভাব জন্ম নেয়। পরিচারিকাকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে বার বার বলতেন চিকিৎসক। কিন্তু তাঁর স্ত্রী প্রতি বারই বিরোধিতা করেছেন। আর এখান থেকেই ‘পরিবারে তাঁর গুরুত্ব কমে যাচ্ছে’ এই ধারণা জন্ম নিয়েছিল চিকিৎসকের মনে। এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারীরা। চিকিৎসক তাই স্ত্রী, পুত্রকেও খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা। তদন্তকারী সূত্রের খবর, কাকে খুন করা উচিত, এই নিয়ে মনের মধ্যে একটা তোলপাড় চলছিল চিকিৎসকের। ঘটনার দিন চিকিৎসকের স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর পুত্র ছিলেন। প্রতি দিনের মতো মীনা কাজ করতে এসেছিলেন চিকিৎসকের বাড়িতে। তিনি ছাদে জামাকাপড় শুকোতে দিতে গিয়েছিলেন। সেই সময়েই তাঁর উপর হামলা চালান চিকিৎসক। তার পর নীচে এসে পুত্রকে জানান যে, মীনাকে তিনি খুন করেছেন। প্রায় এক দশক ধরে ‘অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারে’ ভুগছেন চিকিৎসক। সম্প্রতি তিনি ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে চিকিৎসক দাবি করেছেন, মীনাকে খুন করার কোনও পরিকল্পনা ছিল না তাঁর। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে পরিচারিকা মীনাকে খুনের অভিযোগ উঠেছে দিল্লির মাউন্ট কৈলাস এলাকার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মণীশের বিরুদ্ধে। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই খুনের কারণ খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement