বারোয় সাত, স্বস্তি অমিত-মোদীর

বিহারে ভরাডুবির পর মুখ লুকিয়েছিলেন অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদী। আট রাজ্যে ১২টি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে ৭টিতে এনডিএ জেতায় হাসি ফুটল তাঁদের মুখে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ফিরিয়ে আনলেন তাঁর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মন্ত্রটি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:৪৮
Share:

বিহারে ভরাডুবির পর মুখ লুকিয়েছিলেন অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদী। আট রাজ্যে ১২টি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে ৭টিতে এনডিএ জেতায় হাসি ফুটল তাঁদের মুখে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ফিরিয়ে আনলেন তাঁর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মন্ত্রটি। ফল জানার পরে আজ সন্ধেয় টুইট করে প্রধানমন্ত্রী টুইট করে জানালেন, ‘‘এনডিএ-র প্রয়াস অভিনন্দনযোগ্য। গোটা দেশের মানুষ শুধুমাত্র উন্নয়ন, উন্নয়ন ও উন্নয়নের রাজনীতিতে আস্থা রেখেছেন।’’

Advertisement

উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম ও মধ্য ভারতে ছড়িয়ে থাকা এক ডজন আসনের মধ্যে বিজেপি একা ৩টি বাড়তি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে। ধরে রেখেছে নিজেদের ১টি আসন। নিজেদের দখলে থাকা কোনও আসন তারা খোয়ায়নি। কংগ্রেস দু’টি বাড়তি আসন জিতলেও খুইয়েছে ৪টি।

আগামী বছরই দেশের সব থেকে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। শাসক সমাজবাদী পার্টি তাদের ৩টি আসনের মাত্র ১টি ধরে রাখতে পেরেছে। একটি আসন গিয়েছে কংগ্রেসের ঝুলিতে। আর মুজফ্ফরনগরের মতো স্পর্শকাতর আসনটি শাসক মুলায়মদের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি।

Advertisement

উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দ ও কর্নাটকে ইয়েদুরাপ্পার প্রাক্তন দলের দখলে থাকা আসন ছাড়া আর কোনও সুখবর নেই কংগ্রেসের ঝুলিতে।

বরং কর্নাটক, তেলঙ্গানা, মধ্যপ্রদেশ ও পঞ্জাবে জেতা আসন খোয়াতে হয়েছে তাদের। আর সেই সুযোগে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এক হাত নিয়েছেন কংগ্রেসকে। বলেছেন, ‘‘কংগ্রেস ও তাদের সঙ্গীরা দেশের উন্নয়নকে স্তব্ধ করতে লাগাতার চক্রান্ত করছে। মানুষ আজ তার জবাব দিয়েছেন।’’

পঞ্জাবে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি ভোটে লড়েনি। সেই আসনটি কংগ্রেসের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপিরই শরিক অকালি দল। বিহারে বিজেপির শরিক উপেন্দ্র কুশওয়াহার দল, মহারাষ্ট্রে শরিক শিবসেনা নিজেদের আসন ধরে রেখেছে। ত্রিপুরায় সিপিএম নিজেদের আসন ধরে রাখলেও বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে গিয়েছে। কর্নাটকে সংরক্ষিত দেবদুর্গার সংরক্ষিত আসনও বিজেপি কংগ্রেসের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।

বিজেপির বক্তব্য, হায়দবারবাদে ছাত্রের আত্মহত্যার পরে রাহুল গাঁধী রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে ঝাঁপিয়েছিলেন। দক্ষিণেই তার কোনও প্রভাব পড়েনি। দিল্লি ও বিহারের হারের পর সামনে পাঁচ রাজ্যে কঠিন অগ্নিপরীক্ষা মোদী-শাহ জুটির। এই পাঁচটির মধ্যে একমাত্র অসম ছাড়া রাজ্য দখলের স্বপ্ন দেখছে না দল। তার আগে উপনির্বাচনের ফল কিছুটা হলেও স্বস্তি দিল দলকে।

বামেরা এর আগে অভিযোগ করেছিলেন হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে দলিত ছাত্রের আত্মহত্যার পরেও উচ্চবর্ণের ভোটের কথা ভেবে তাঁদের পাশে থেকেছে বিজেপি। এখন বামেদের অভিযোগ, দিল্লিতে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের স্লোগান দেওয়া নিয়ে যে ভাবে পাক ষড়ষন্ত্রের জিগির তোলা হচ্ছে, তার পিছনেও ভোটের অঙ্ক তথা চক্রান্ত রয়েছে। এ দিনের ভোটের
ফলে তার প্রভাবও দেখছেন বিরোধীদের একাংশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement