নিট পরীক্ষার্থী প্রদীপের দেহ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত।
রাজস্থানে এক নিট পরীক্ষার্থীর দেহ উদ্ধার হল। বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ বছর নিট-ইউজি পরীক্ষা দিয়েছিলেন প্রদীপ মাহিচ নামে ওই তরুণ। প্রসঙ্গত, গত ৩ মে সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট-ইউজি) হয়। কিন্তু ৭ মে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। হুলস্থুল পড়তেই ১২ মে সেই পরীক্ষা বাতিল বলে ঘোষণা করে পরীক্ষা পরিচালন সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)।
পরিবারের দাবি, পরীক্ষা নিয়ে খুব আশাবাদী ছিলেন প্রদীপ। পরীক্ষা দিয়ে আসার পরই বাড়িতে জানিয়েছিলেন যে, তিনি ৬৫০ নম্বর পাবেন। কিন্তু পরীক্ষার চার দিনের মাথায় যখন প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, তখন থেকেই খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন প্রদীপ। কিন্তু পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা হতেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু তার জেরে এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন প্রদীপ কেউ আঁচ করতে পারেননি বলেই দাবি পরিবারের সদস্যদের।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাজস্থানের ঝুনঝুনুর বাসিন্দা প্রদীপ। কিন্তু নিটের প্রস্তুতির জন্য সীকরে থাকতেন। সেখানেই কোচিং করতেন। তাঁর দিদি এবং বোনও সীকরে কোচিং করেন। তিন ভাইবোন একসঙ্গেই একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।শুক্রবার প্রদীপের বোন কোচিংয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর দিদি বাথরুমে ছিলেন। তিনি বেরিয়ে এসে দেখেন সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো প্রদীপের। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাড়িওয়ালাকে ডাকেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকেও। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় প্রদীপকে। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। প্রদীপের বাবা রাজেশ কুমার মেঘওয়াল বলেন, ‘‘ছেলে খুব ভাল পরীক্ষা দিয়েছিল এ বার। প্রদীপ বাড়িতে বলেছিল, সরকারি মেডিক্যাল কলেজে আমার সুযোগ পাকা। এত আত্মবিশ্বাস ছিল ওর মধ্যে।’’ কিন্তু এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে ভাবতে পারছি না। এর পরই তিনি নিট নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন।