Bengaluru Murder

বেঙ্গালুরু হত্যাকাণ্ড: ৫৬ লক্ষ ঋণ, অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক! লিভ ইন সঙ্গীর বাবা-মা ও বোনের খুনে এআই-এর সাহায্য ইঞ্জিনিয়ারের

গত ২২ জুন শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর, মা মুত্তুলক্ষ্মী এবং বোন সুপ্রিয়াকে খুনের অভিযোগ ওঠে কেনেথের বিরুদ্ধে। আর এ কাজে শ্বেতাই তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বলে অভিযোগ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ১১:১৪
Share:

অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার জে কেনেথ। ছবি: সংগৃহীত।

বেঙ্গালুরুতে একই পরিবারের তিন জনের হত্যাকাণ্ডে নয়া তথ্য উঠে এল। তদন্তকারী সূত্রের খবর, কী ভাবে খুন করতে হবে, শরীরের কোথায় হামলা চালালে সেটি প্রাণঘাতী হতে পারে, সব কিছু জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্য নিয়েছিলেন অভিযুক্ত ইঞ্জনিয়ার জে কেনেথ এবং তাঁর লিভ ইন সঙ্গী শ্বেতা।

Advertisement

তদন্তকারী সূত্রের খবর, গত ২২ জুন শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর, মা মুত্তুলক্ষ্মী এবং বোন সুপ্রিয়াকে খুনের অভিযোগ ওঠে কেনেথের বিরুদ্ধে। আর এ কাজে শ্বেতাই তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। দু’জনকেই তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার সূত্রপাত, ৫৬ লক্ষ টাকার ঋণকে কেন্দ্র করে। তদন্তকারী সূত্রের খবর, কেনেথের বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং শখ মেটানোর জন্য ৫৬ লক্ষ টাকার ঋণ নিয়েছিলেন শ্বেতা। এ কথা শ্বেতার বাবা-মা জানতেন না। কিন্তু কেনেথ এবং শ্বেতা ওই বাড়িতেই থাকতেন। ফলে ঠিকানা হিসাবে শ্বেতার বাপের বাড়ির ঠিকানাই দেওয়া ছিল।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি কিস্তি বাকি পড়ে যাওয়ায় শ্বেতার বাপের বাড়িতে ব্যাঙ্ক থেকে এসে নোটিস দিয়ে যায়। এত টাকা কিসের জন্য ঋণ নেওয়া হয়েছিল, তা কেনেথ এবং শ্বেতার কাছে বার বার জানতে চেয়েছিলেন শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর। অভিযোগ, সেই সময়েই শ্বেতার বাবা-মাকে খুনের পরিকল্পনা করেন কেনেথ। শ্বেতাকে বলেছিলেন, ‘‘ওদের এ বার সরিয়ে দিতে হবে।’’ তার মধ্যেই কেনেথের সঙ্গে অন্য মহিলার সম্পর্কের কথা জানতে পারেন শ্বেতা। তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসাও হয়। অভিযোগ, শ্বেতার লিভ ইন সম্পর্ক পছন্দ করতেন না তাঁর বাবা-মা। তার মধ্যে এই সম্পর্কে তৃতীয় এক নারীর আবির্ভাবে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে।

Advertisement

তদন্তকারী সূত্রের খবর, ওই মহিলা কেনেথের সহকর্মী। আর কেউ নন। তদন্তকারীদের দাবি, শ্বেতাকে কোনও রকমে বুঝিয়ে ফেলেছিলেন কেনেথ। তাতে বিশ্বাসও করেন শ্বেতা। তার পরই দু’জনে মিলে খুনের পরিকল্পনা করেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শ্বেতার বাবা, মা এবং বোনকে নিজেদের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে আসেন কেনেথ। তার পরই তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। প্রথমে খুন করা হয় শ্বেতার মাকে। অভিযোগ, সব কিছু সামনে থেকে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন শ্বেতা। যে সময় এই ঘটনা ঘটছিল, তখন শ্বেতার বাবা এবং বোনও চলে আসেন। ঘরে ঢুকতেই তাঁদের উপরও হামলা চালানো হয়। বোনের হাত-পা চেপে ধরেন শ্বেতা। আর কেনেথ তাঁকে কুপিয়ে খুন করেন বলে অভিযোগ। শ্বেতার বাবা পালিয়েও রক্ষা পাননি। তবে পড়শিদের জানাতে পেরেছিলেন যে, তাঁদের উপর হামলা চালান শ্বেতা এবং কেনেথ। হাসপাতালে মৃত্যু হয় শ্বেতার বাবার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement