অভিযুক্ত স্বামী শ্রীচরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী রাধা। ছবি: সংগৃহীত।
উত্তরাখণ্ডে মধুচন্দ্রিমায় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী রাধা গায়ত্রীর মৃত্যুতে নয়া তথ্য প্রকাশ্যে এল। পুলিশ জানিয়েছে, গায়ত্রীর পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীকে সব সময় সন্দেহ করতেন স্বামী সোমায়াজুলা শ্রীচরণ। রাধা কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে কথা বলছেন— সব গতিবিধির উপরে নজরদারি চালাতেন শ্রীচরণ। শুধু তা-ই নয়, অভিযোগ, রাধার গতিবিধি নজরে রাখতে তাঁর ব্যাগে জিপিএস ট্র্যাকার লুকিয়ে রেখে দিয়েছিলেন শ্রীচরণ। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলেছে পরিবার।
গায়ত্রীর বাবা পারুপুরী সুধাকরের অভিযোগ, তাঁর জামাই কন্যাকে নানা রকম ভাবে হেনস্থা করতেন। তাঁকে মানসিক নির্যাতন করতেন। তাঁর আরও দাবি, গায়ত্রী কোনও দিন মদ ছুঁয়েও দেখেননি, তা হলে মদ্যাপানের প্রসঙ্গ উঠছে কেন? ঘটনাচক্রে, যে দিন মসূরীর হোমস্টে থেকে রাধার দেহ উদ্ধার হয়েছিল, পুলিশের কাছে শ্রীচরণ দাবি করেছিলেন যে, রাত সাড়ে ৩টে পর্যন্ত তাঁরা দু’জনে মিলে মদ্যপান করার পর শুতে যান। তদন্তকারী সূত্রের খবর, এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, রাধাকে তাঁর স্বামী শ্রীচরণ বলেছিলেন হৃষীকেশে ঘুরতে নিয়ে যাবেন। কিন্তু ঘটনাচক্রে দেখা গিয়েছে, তাঁরা মসূরীতে একটি হোমস্টেতে ওঠেন। পরিবারের অভিযোগ, রাধাকে না জানিয়েই গোপনে মসূরীতে হোমস্টে বুক করেছিলেন শ্রীচরণ। এখান থেকে তদন্তকারীদের সন্দেহ, কেন রাধাকে আগে থেকে কিছু জানাননি তাঁর স্বামী।
তদন্তকারীরা এটাও জানতে পেরেছেন যে, মসূরীতে এক আইনজীবীকে আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, তা হলে কি বড় কোনও রকমের পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন শ্রীচরণ? ১৫ জুন গায়ত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। ওই দিনই শ্রীচরণ এক জন আইনজীবীকে নিয়োগ করেন। রাধা ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে পুলিশের কাছে দাবি করেন। শধু তা-ই নয়, মৃত্যুর আগের রাতে রেড ওয়াইন খেয়েছিলেন গায়ত্রী। তাঁর রক্তচাপও কমে গিয়েছিল। গায়ত্রীর বাবা, এই সমস্ত দাবিকে খণ্ডন করে পাল্টা দাবি করেন, তাঁর কন্যা সুস্থ ছিলেন। কোনও অসুস্থতা ছিল না। ফলে রাধার মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।