পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতির পরে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজের যাতায়াত ক্রমশ স্বাভাবিক হচ্ছে। বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম ক্রমশ নামতে শুরু করেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ঘোরাফেরা করছে ব্যারেলপিছু ৭০ থেকে ৭২ ডলারে। ডব্লিউটিআই (ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা সুইট ক্রুড) ৬৮-৬৯ ডলারের আশপাশে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ঘরোয়া বাজারে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম কমাতে পারে বলে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কেন না, বুধবারই পেট্রল-ডিজ়েলের দাম কমিয়েছে দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি জ্বালানি সংস্থা ‘নায়ারা এনার্জি’। ওই দিন থেকে তারা লিটারপিছু পেট্রলের দাম ৫ টাকা এবং ডিজ়েলের দাম ৩ টাকা করে কমিয়েছে। পাশাপাশি, কমেছে বাণিজ্যিক গ্যাস ও অটোর এলপিজির দাম। কিন্তু কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিলেন আপাতত তার কোনও সম্ভাবনা নেই।
হরদীপ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পেট্রল, ডিজ়েল এবং এলপিজি বিক্রিতে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলির ৭৪,৭৮১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু ১৭ জুন তো আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতি হয়ে গিয়েছে, তার পরে তেলের দামও কমতে শুরু করেছে। ভারতে কি দাম কমবে? পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী জানান, এখন ভারতীয় তেল সংস্থাগুলি যে পেট্রল-ডিজ়েল-এলপিজি বিক্রি করছে, সেই অশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মাস দুয়েক আগে কেনা। এ সংক্রান্ত প্রশ্নে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘‘যদি আগামী কয়েক সপ্তাহ তেলের দাম কমই থাকে, তা হলে এটি (পেট্রল-ডিজ়েলের দাম কমবে কি না) একটি যুক্তিগ্রাহ্য প্রশ্ন হবে।’’
হরদীপ বলেন, “আজ আমরা যে অশোধিত তেল ব্যবহার করছি, তা দু’মাস আগে কিনেছিলাম। তখন যে দাম ছিল সেই দামে। যদি এটি (আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম কমা) আগামী ২–৩ মাস ধরে অব্যাহত থাকে, আমরা ভেবে দেখব।” সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সামরিক অভিযানের সময় ‘উন্নত বিশ্বে’ পেট্রলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছিল। ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে বেড়েছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ, কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতে পেট্রলের দাম বৃদ্ধি ছিল মাত্র ৫.৫৮%। সেই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “গত চার মাসে (২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন শেষ পর্যন্ত) আমাদের ১ লক্ষ ৭ হাজারটি খুচরা আউটলেটের কোনওটি বন্ধ হয়নি বা কোনও ঘাটতি হয়নি, আমরা ভাল ভাবে, দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলেছি।” তিনি জানান, ইরান যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের উপরে উঠে গিয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি তার পুরো ভার গ্রাহকদের উপর না-চাপিয়ে দিয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ নিজেরা বহন করেছিল। যদিও অভিযোগ, এর আগে যখন ব্যারেল প্রতি তেল ৭০-৭১ ডলারে নেমেছিল, তখন তার সুবিধা ভারতের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয়নি। দাম অপরিবর্তিত ছিল পেট্রল-ডিজ়েলের। যুদ্ধ শুরুর পরে বেশ কিছু দিন বিশ্ব বাজারে তেল ১০০ ডলারের উপর থাকতেই টানা চার বার দেশে সেগুলির দাম বাড়িয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। যা ঠেলে তুলেছে খাবার-সহ বিভিন্ন পণ্যের দামকে।